kalerkantho


রাজবাড়ী

ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ উপেক্ষা

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রাজবাড়ীর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের কাজের গতি ফিরে এসেছে। তবে এখন অন্যত্র সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিচারক নিয়োগের পর এ ট্রাইব্যুনাল বিগত ১৯ মাসে সাড়ে চার শতাধিক রায় ঘোষণা করেছেন। তবে ওই রায় কার্যকরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জমির সর্বশেষ জরিপের নাম ‘বাংলাদেশ জরিপ’ বা বিএস। এ জরিপের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ানকে বিএস খতিয়ান বলা হয়, যা সরকার গেজেটের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ভূমি জরিপ অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রকাশ করে। চূড়ান্ত বিএস খতিয়ানের বিভিন্ন অসংগতি, যেমন—ভুল দাগ নম্বর, মালিকের ঘরে ভুল নাম, ভূমির পরিমাণ কমবেশি, প্রকৃত ব্যক্তির নামে খতিয়ান প্রস্তুত না হওয়াসহ নানা ক্রটির কারণে বিএস খতিয়ানকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা করা যায় একমাত্র ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে। প্রাথমিকভাবে সরকার বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে দেশের বৃহত্তর ১৯টি জেলায় ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে। পরে ২০১২ সালের ২৯ নভেম্বর গেজেটমূলে ৪১টি জেলায় ৪১টি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। একজন যুগ্ম জেলা জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তা ওই ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ করে থাকেন।

রাজবাড়ী জেলায় সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী একই তারিখে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলেও ২০১৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কোনো বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে ২০১৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ মেহেদী হাসান তালুকদারকে রাজবাড়ী জেলায় ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়।

রাজবাড়ীর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, এ ট্রাইব্যুনালে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুই হাজার ১৩৪টি মামলা করা হয়েছে। তবে এ ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিয়োগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সহায়ক কোনো কর্মচারী নিয়োগ দেয়নি সরকার। জেলা জজ আদালতের কর্মচারীরা প্রেষণে এ ট্রাইব্যুনালে কর্মরত আছেন। মাত্র চারজন কর্মচারী নিয়ে এ ট্রাইব্যুনালে কাজকর্ম চলছে। যুগ্ম জেলা জজ পদের কর্মকর্তারা স্টেনো টাইপিস্ট পেলেও রায়-ডিক্রি, আদেশসহ প্রশাসনিক কাজের জন্য নেই সার্বক্ষণিক কম্পিউটার প্রশিক্ষিত কোনো কর্মচারী। তা ছাড়া এ ট্রাইব্যুনালের অধীনে নেই নকলখানা, রেকর্ডরুম ও নেজারত বিভাগ। ফলে আইনে ট্রাইব্যুনাল স্বয়ংসম্পূর্ণ হলেও জেলা জজ আদালতের সংশ্লিষ্ট অফিস ও কর্মচারী দিয়ে চলছে ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ। নিজস্ব জারিকারক না থাকায় ট্রাইব্যুনালের বিভিন্ন সমন, নোটিশ, তলবপত্র ও চিঠি আদান-প্রদানে অসুবিধা হচ্ছে।

এমন শত প্রতিকূলতার মধ্যেও অসংখ্য মামলায় একই দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে তাত্ক্ষণিক রায় দিয়ে ট্রাইব্যুনাল ইতিমধ্যে নজির স্থাপন করেছেন। এ পর্যন্ত সাড়ে চার শতাধিক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে। তবে জেলা প্রশাসনের অসহযোগিতার কারণে থমকে আছে রায় বাস্তবায়নের কাজ। কারণ ট্রাইব্যুনাল থেকে রায় দেওয়ার পর জেলা প্রশাসন বিএস খতিয়ান সংশোধন করার কথা; কিন্তু তা হচ্ছে না। ট্রাইব্যুনালে এ নিয়ে অনেকে অভিযোগও করেছেন। সর্বশেষ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী নারায়ণ চন্দ্র দত্ত লিখিতভাবে এ ট্রাইব্যুনাল থেকে ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর একটি একতরফা রায় ও একই বছরের ১৯ অক্টোবর ডিক্রিমূলে বিএস খতিয়ান সংশোধন না করায় রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানান। ট্রাইব্যুনাল তাত্ক্ষণিক নথি তলবের মাধ্যমে ওই অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পান। ট্রাইব্যুনালের বিচারক ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এ বিষয়ে জেলা প্রশাসককে কারণ দর্শাতে বলেন।

রাজবাড়ীর সাবেক জিপি শফিকুল আজম মামুন জানান, তিনি এক বছর আগে সরকারি আইনজীবী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তখন সরকারের বিরুদ্ধে হওয়া রায়ের ব্যাপারে হাইকোর্টে আপিল করতে বলা হয়েছিল।

রাজবাড়ী জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট গণেশ নারায়ণ চৌধুরী জানান, ট্রাইব্যুনাল জেলা প্রশাসককে শোকজ করেছে। এর পরও ফল পাওয়া যাচ্ছে না। আইন অনুযায়ী রায় পালিত হচ্ছে না।

রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আশরাফ হোসেন জানান, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের আইনে ফাঁক রয়েছে।


মন্তব্য