kalerkantho


মহাসড়কের দুই ধারে সারি সারি মরা গাছ

কুমিল্লায় সরকারি বনায়ন

আবদুর রহমান, কুমিল্লা (দক্ষিণ)   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মহাসড়কের দুই ধারে সারি সারি মরা গাছ

সড়কের দুই পাশের গাছগুলো মরে কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে। কী কারণে এভাবে শত শত গাছ মরছে তার সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি। ছবিটি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার চানগাঁও-নোয়াপাড়া থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন সড়কে সরকারি বনায়নের শত শত গাছ মরে গেছে। দেড়-দুই বছর ধরে সড়কের দুই পাশে মরা গাছগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব গাছে মড়ক দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ যেমন প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়নি, তেমনি মরে যাওয়ার পর দীর্ঘ দিনেও গাছগুলো কাটার ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্তমানে গাছগুলোর ডালপালা ভেঙে ভেঙে পড়ছে। তবে কী কারণে এভাবে শত শত গাছ মরে গেল, তারও সন্তোষজনক জবাব পাওয়া যায়নি।

এক সপ্তাহ ধরে সরেজমিনে ঘুরে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক, লাকসাম-মুদাফ্ফরগঞ্জ সড়ক, লাকসাম-নাঙ্গলকোট-বক্সগঞ্জ সড়ক, মনোহরগঞ্জের খিলা-নাঙ্গলকোট সড়কসহ বেশ কিছু সড়কে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। একই অবস্থা লাকসাম পৌর শহরের মিশ্রি, উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের অশ্বতলা, চুনাতি, মনোহরপুর, চানগাঁও, নোয়াপাড়া বাজারসহ আশপাশের বেশ কিছু এলাকায়।

কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে সড়কের দুই পাশে সরকারি বনায়নের শত শত গাছে মড়ক লেগেছে। সড়কের দুই পাশে মরা গাছগুলো ঠায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। এক সপ্তাহ ধরে সরেজমিনে ঘুরে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক, লাকসাম-মুদাফ্ফরগঞ্জ সড়ক, লাকসাম-নাঙ্গলকোট-বক্সগঞ্জ সড়ক, মনোহরগঞ্জের খিলা-নাঙ্গলকোট সড়কসহ বেশ কিছু সড়কে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। এ ছাড়া একই অবস্থা লাকসাম পৌর শহরের মিশ্রি, উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের অশ্বতলা, চুনাতি, মনোহরপুর, চানগাঁও, নোয়াপাড়া বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায়ও।

দেড়-দুই বছর ধরে গাছগুলোর এ অবস্থা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মরে যাওয়া গাছগুলোর বেশির ভাগই শিশু গাছ। কিছু ইউকিলিপটাস ও আকাশী গাছও রয়েছে। এলাকাবাসীসহ সংশ্লিষ্টদের ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তন আর অনুকূল পরিবেশের অভাবের পাশাপাশি অজানা কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এভাবে গাছগুলো মরে যেতে পারে। অন্যদিকে গাছগুলো মৃত অবস্থায় পচন ধরায় এবং সময়মতো না কাটতে পারায় সরকারের কয়েক কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়ে গেছে।

এক সপ্তাহ ধরে ওই সড়কগুলোতে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, মরে যাওয়া গাছগুলোর কোনোটিতে ঘুণে ধরেছে, কোনোটিতে আবার বাসা বেঁধেছে কাঠপোকা। মরা গাছগুলোর ডালপালা ভেঙে ভেঙে পড়ছে। তাতে দুর্ঘটনা ঘটারও আশঙ্কা রয়েছে। গাছগুলো দীর্ঘদিন আগে মারা গেলেও কর্তৃপক্ষ এসব কাটার ব্যাপারে উদ্যোগ নিচ্ছে না।

লাকসাম পৌরসভার মিশ্রি এলাকা, উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের চুনাতি, মনোহরপুর, চানগাঁও, নোয়াপাড়া বাজার, অশ্বতলাসহ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পাকা সড়ক ঘুরে দেখা যায়, ওই সড়কের দুই পাশে বনায়নের ছোট-বড় শত শত গাছ মরে শুকিয়ে আছে। গাছগুলোর নিচ দিয়ে রাস্তায় যাতায়াতের সময় ভয় লাগে, এই বুঝি মাথায় ভেঙে পড়ল!

লাকসামের চানগাঁও গ্রামের কৃষক আবদুল হাই জানান, কয়েক বছর আগে একটি গাছ ভেঙে তাঁর জমির ওপর পড়লে ফসলের ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, ‘অবস্থা এমন যে না পারি সইতে, না পারি গাছগুলো কাটতে। ’

পাশের অশ্বতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন খুদে শিক্ষার্থী জানায়, এ রাস্তা দিয়ে আসতে ভয় লাগে। মনে হয় ভূত-পেত্নী গাছের মধ্যে বসে আছে। যেকোনো সময় গাছসহ ভেঙে পড়বে।

কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের লালমাই থেকে লাকসামের মুদাফ্ফরগঞ্জ বাজার পর্যন্ত গিয়েও দেখা গেছে একই অবস্থা। ওই আঞ্চলিক মহাসড়কে শত শত গাছ মরে কঙ্কাল হয়ে গেছে। এ ছাড়া জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা, মাহিনী, বাঙ্গড্ডা, ঢালুয়া, বক্সগঞ্জ, আদ্রা, মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন সড়কের দুই পাশে লাগানো গাছগুলোরও একই অবস্থা। লাকসাম-নাঙ্গলকোট সড়কের সাড়ে ১২ কিলোমিটার এলাকায় সড়কের দুই পাশে লাগানো শত শত গাছ মরে গেছে। প্রথমে ওই গাছগুলোর গোড়ায় পচন দেখা দেয়। তারপর আস্তে আস্তে শুকিয়ে কঙ্কালের মতো হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ওই সড়কগুলোর পাশের বাসিন্দারা জানিয়েছে, কয়েক বছর আগেও গাছগুলো ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি সড়কের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। কিন্তু দেড়-দুই বছর ধরে হঠাৎ গাছগুলোর গোড়া শুকিয়ে যেতে শুরু করে। একপর্যায়ে পাতা ঝরে পড়ে ডালপালা দুর্বল হয়ে ভেঙে পড়ে। গাছগুলোর বাকল খসে পড়ে মূল কাণ্ড দুর্বল হতে থাকে। পরে একসময় গাছগুলো পুরোপুরি মরে যায়। সড়কগুলোর দুই পাশের প্রায় ৮০ শতাংশ গাছ ইতিমধ্যে মরে গেছে। তবে এলাকাবাসী বিষয়টি বারবার জানালেও গাছগুলো রক্ষায় বা সঠিক সময়ে অপসারণের উদ্যোগ নেয়নি বন বিভাগ। এ অবস্থায় দেশের কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হলো।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে লাকসাম উপজেলা বন কর্মকর্তা মো. আলী নেওয়াজ বলেন, মাটির তারতম্য ও বয়স বেশি হওয়ায় শিশু গাছগুলো মরে গেছে। তবে অন্যান্য গাছের ক্ষেত্রে মৃতের হার কম। তিনি জানান, মরে যাওয়া গাছগুলো কাটার জন্য এ মাসের মধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হবে। এরপর মরা গাছগুলো কেটে নতুন গাছ রোপণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের কোটবাড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. ফজলুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সব সড়ক থেকে মরা গাছগুলো কেটে ফেলা হবে। এসব গাছ কাটার প্রক্রিয়া শেষ হলেই নতুন করে আবার বনায়ন করা হবে।


মন্তব্য