kalerkantho


রেলের সিগন্যাল বিড়ম্বনা

আখাউড়ায় সোনার বাংলার বিরতি, মহানগর ছুটল সিলেটের দিকে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



সাধারণত ট্রেন থামা ও ছাড়ার সংকেত বাতি (সিগন্যাল) থাকে সংশ্লিষ্ট রেললাইনের বাঁ পাশে। কিন্তু দেশের অন্যতম বড় রেলওয়ে জংশন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার একটি লাইনের সিগন্যাল ডান পাশে।

আর এটিকে কেন্দ্র করেই গত বৃহস্পতিবার রাতে আখাউড়ায় হুলুস্থুল বেধে যায়। চট্টগ্রাম-ঢাকা পথের বিরতিহীন সোনার বাংলা ট্রেনের চালক ‘বাধ্য হয়ে’ ট্রেনটিকে আখাউড়ায় যাত্রাবিরতি করান। অন্যদিকে ঢাকার দিকের মহানগর গোধূলি ট্রেন চলে যায় সিলেটের দিকে। এতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা বিলম্বে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৪২ মিনিটে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী আন্তনগর মহানগর গোধূলি ট্রেন আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের ১ নম্বর লাইনে প্রবেশ করে। থামার মিনিট তিনেক পরই ট্রেনটি দাঁড়িয়ে থাকা লাইনের বাঁ পাশে সিগন্যাল পোস্টে ছেড়ে যাওয়ার বাতি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে ট্রেনটি ধীরগতিতে চলতে থাকে। এরই মধ্যে দ্রুতগতিতে আসতে থাকা বিরতিহীন সোনার বাংলা ট্রেন ২ নম্বর লাইন দিয়ে চলে যেতে থাকে। দুটি ট্রেন একই অভিমুখী হওয়ায় স্টেশনের ১ ও ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষমাণ যাত্রীসহ অন্যদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়।

ট্রেন দুটিকে থামানোর জন্য তারা বিভিন্নভাবে চালক ও পরিচালকের (গার্ড) দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়েন রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও। এরই মধ্যে সোনার বাংলার চালক রেলওয়ে স্টেশনের শেষ মাথায় গিয়ে ট্রেনটি থামাতে সক্ষম হন।

অন্যদিকে ঢাকার বদলে সিলেটের দিকে চলে যাওয়া মহানগর গোধূলিও অনেক দূর গিয়ে থামে। রাত ৮টা ৫০ মিনিটে অনির্ধারিত যাত্রাবিরতি দেওয়া সোনার বাংলা রাত ৯টায় ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। মহানগর ট্রেনটিকে পিছিয়ে আনা হয়। এটি রাত ৯টা ১৪ মিনিটে আখাউড়া ছেড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী তানভীর আহমেদ, শামীম শিশির, রেজওয়ান, পঙ্কজ বিশ্বাসসহ অনেকে জানান, দুটি ট্রেন যখন একসঙ্গে চলতে থাকে তখন স্টেশনে অপেক্ষমাণ লোকজনের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ঘটনা জানার পর দুটি ট্রেনের যাত্রীদের মধ্যেও ভয় দেখা দেয়।

মহানগর ট্রেনের চালক রেজাউর রহমান ও সহকারী চালক শামীম তালুকদার জানান, ছাড়ার জন্য বাঁ দিকের সংকেত দেখে ট্রেন চালিয়ে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে দেখা যায় ট্রেনটি সিলেটের দিকে যাচ্ছে। স্টেশনের সংশ্লিষ্ট লোকজন এসে জানান, মূলত সোনার বাংলার যাওয়ার জন্য সংকেত দেওয়া হয়েছিল।

আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন কেবিন মাস্টার শেখ উজ্জ্বল মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১ নম্বর লাইন উঠিয়ে ফেলার পর থেকে ২ নম্বর লাইন ১ নম্বর হয়। কিন্তু সেই ১ নম্বর লাইনের সংকেতটিই পুরনো ২ নম্বরের (বর্তমান ১ নম্বর) জন্য ব্যবহার হয়। অর্থাৎ এখন ১ নম্বর লাইনের সংকেতটি ডান দিকে। কিন্তু ২ নম্বর লাইনের সংকেত ১ নম্বরের বাঁয়ে থাকায় মাঝেমধ্যে সেটিকেই তার সংকেত ধরে নেন ১ নম্বর ট্রেনের চালক। তবে মহানগর ট্রেনটি আসার পর সোনার বাংলা আগে যাবে বলে আমরা মহানগরের চালক ও পরিচালককে বলে রাখি। কিন্তু সোনার বাংলার সংকেত দেখেই মহানগর চালিয়ে দেওয়া হয়। আমাদের এক কর্মচারীসহ স্টেশনে থাকা লোকজন বিষয়টি লক্ষ করে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে মহানগরের চালক ও পরিচালকের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। সোনার বাংলা যদি নাও থামত তাতেও কোনো অসুবিধা ছিল না। কেননা সিস্টেমের কারণে লাইন এমনভাবে মিলে যায় যে ঢাকার দিকে একটির

সংকেত দেওয়া হলে অন্যটি সিলেটের দিকে হয়ে যাবে। এতে দুটি ট্রেনের মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা না থাকলেও যাত্রীরা ভয় পেয়ে যায় বলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। ’


মন্তব্য