kalerkantho


নারীর স্থান পুরুষের দখলে

লালমনিরহাট প্রতিনিধি   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মার্কেটের নাম ‘উইমেন্স কর্নার’। লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা সদরের বুড়িরহাটে মার্কেটটির অবস্থান। দরিদ্র নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে সরকারি উদ্যোগে মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়েছিল। নিয়মানুযী নামমাত্র মাসিক ভাড়ায় সেখানে ব্যবসা করার কথা নারীদের। কিন্তু সেই মার্কেটের অধিকাংশ দোকানই চলে গেছে পুরুষদের দখলে। সেখানে নানা ধরনের ব্যবসা পেতে বসেছে পুরুষরা, যাদের বেশির ভাগই সচ্ছল। দিনের পর দিন এ অনিয়ম চললেও যেন দেখার কেউ নেই। দোকানগুলো কারা বরাদ্দ নিয়েছে সেই তথ্যও জানাতে পারেনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এমনকি এসংক্রান্ত ফাইলটিই নাকি ‘গায়েব’ হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৬ সালে বুড়িরহাটে ‘উইমেন্স কর্নার’ নির্মাণ করেছিল আদিতমারী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এখানে রয়েছে আটটি দোকান।

নিয়মানুযায়ী প্রতি মাসে ১০০ টাকা ভাড়ার বিনিময়ে দোকানগুলো বরাদ্দ পান দরিদ্র নারীরা। কিন্তু বর্তমানে সাতটি দোকানই ব্যবহার করছে পুরুষরা।

সরেজমিনে জানা যায়, বেশির ভাগ সময়ই মার্কেটের দোকানগুলো বন্ধ থাকে। একমাত্র দিপালী রানী দীর্ঘদিন ধরে ‘দিপালী টেইলার্স’-এ ব্যবসা করছেন। বাকিগুলো রয়েছে পুরুষদের দখলে। বুড়িরবাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হারিছ মিয়া গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করছেন ‘বাসন্তী লেডিস টেইলার্স’ দোকানটি। তাঁর মতো মৃণাল কান্তিও ‘মর্জিনা বস্ত্রালয়’টি গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছেন। অন্যদিকে হামিদা বেগমের নামে বরাদ্দ রয়েছে ‘ভাই ভাই লন্ড্রি ঘর’। কিন্তু সেখানে ব্যবসা করছেন মোহাম্মদ আলী। জোবেদ মিয়ার দখলে রয়েছে ‘জেসমিন লেডিস টেইলার্স’। ‘হাজেরা মেডিক্যাল হল’ বেবী আক্তারের নামে বরাদ্দ থাকলেও সেখানে চেম্বার খুলে বসেছেন পল্লী চিকিৎসক জয়নাল আবেদীন। ‘সন্ধ্যা বস্ত্রালয়’-এ ব্যবসা করছেন ইলেকট্রিশিয়ান শ্যামল চন্দ্র।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ব্যবসায়ী হারিছ মিয়া বলেন, ‘নারী মার্কেটের ঘর খালি থাকায় এর একটিকে কিছুদিন থেকে গোডাইন হিসেবে ব্যবহার করছি’। পল্লী চিকিৎসক জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘বেবী আক্তার আমার খালা হন। কিন্তু তিনি না থাকায় আমি সেখানে বসে মানুষকে চিকিৎসা দিই। আর এ জন্য ১০০ টাকা করে ভাড়াও দেওয়া হয়। ’

আদিতমারী এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, মার্কেটটি দেখার দায়িত্ব মূলত তাদের। কিন্তু এ দপ্তরের লোকজন নাকি জানেই না যে দোকানগুলো কার কার নামে বরাদ্দ রয়েছে। এসংক্রান্ত ফাইলটিও উপজেলা প্রকৌশল অফিস থেকে ‘উধাও’ হয়ে গেছে বলে একজন সহকারী প্রকৌশলী জানিয়েছেন। মাসিক দোকান ভাড়ার টাকা কে তুলছেন, সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে—এসব বিষয়ে অফিস থেকে সঠিক কোনো তথ্য মেলেনি। যদিও টাকা নিয়মানুযায়ী রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে থাকা এলজিইডির চলতি হিসাব নম্বরে জমা দেওয়ার কথা।

তবে আদিতমারী এলজিইডির একটি সূত্র জানায়, দোকানগুলোর চাবি বুড়িরহাট বাজারের ইজারাদার ইব্রাহিম মিয়ার কাছে রয়েছে। তিনিই ভাড়ার টাকা তুলছেন। বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা প্রকৌশল অফিসের কমিউনিটি অর্গানাইজার (সিও) রেজাউল করিম বলেন, ‘তিনিই (ইব্রাহিম) এসব দেখভাল করে থাকেন’। এর বাইরে তিনি আর কিছু বলতে রাজি হননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উইমেন্স কর্নারের বিষয়টি আমার জানা নেই, তবে আমি এখন এটার খোঁজ নেব। ’


মন্তব্য