kalerkantho


দেওয়ানগঞ্জে শিশুকে অপহরণের পর হত্যা

আদালত থেকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি

জামালপুর প্রতিনিধি   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আদালত থেকে মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের কালিকাপুর গ্রামের পাঁচ বছরের শিশু তন্ময় চন্দ্র দাসকে অপহরণের পর হত্যার অভিযোগে করা মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে আসামিরা। এ ঘটনায় দেওয়ানগঞ্জ থানা মামলা না নেওয়ায় তন্ময়ের বড় ভাই সুব্রত চন্দ্র দাস জামালপুর আদালতে মামলাটি করেন। আদালত গত ২১ ফেব্রুয়ারি ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছেন থানার পুলিশকে। তবে পুলিশ বলছে, ওই ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি এবং আদালতের নির্দেশও তারা হাতে পায়নি। এদিকে হুমকিতে আতঙ্কে আছে তন্ময়ের পরিবার।

তন্ময় চন্দ্র দাস দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা শহরের কালিকাপুর গ্রামের শংকর চন্দ্র দাস ও পার্বতী রানী দাসের ছেলে।

তন্ময়ের পরিবার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, শংকর চন্দ্র দাস ও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে পুত্রবধূ রুপা রানী দাসের পারিবারিক কলহ চলছিল। এদিকে কালিকাপুর গ্রামের এনাতুল হোসেনের ছেলে মঞ্জু হোসেন, মনোহর মিয়ার ছেলে রুবা মিয়া, তাজেলের ছেলে হেলাল মিয়া ও চটকু মিয়ার ছেলে নুর মোহাম্মদ মাঝেমধ্যে শংকর চন্দ্রের বাড়িতে যাওয়া-আসা করত। এ চার যুবক তন্ময়কে অপহরণের পর কয়েক দিন আটকে রেখে রুপা রানীকে পারিবারিক কলহ থেকে মুক্ত করতে একটি পরিকল্পনা করে। এ ফাঁদে পা দিয়ে সরল বিশ্বাসে রুপা রানী গত ৩১ ডিসেম্বর সকালে দেবর তন্ময়কে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন। তারা গ্রামের রফিক উদ্দিন সড়কের চৌরাস্তা মোড়ে পৌঁছলে পূর্বপরিকল্পনামতো সেখানে থাকা ওই চার যুবক তন্ময়কে জোর করে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

রুপা বাড়ি ফিরে পরিবারের সদস্যদের জানান, তন্ময় তাঁর হাত থেকে ছুটে পালিয়ে গেছে। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫টায় কালিকাপুর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে হলকারচর নদীপাড় থেকে তন্ময়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শিশুটি পানিতে পড়ে মারা গেছে, এ ধারণায় তার পরিবারের সদস্যরা ওই দিন বিনা ময়নাতদন্তে লাশ থানা থেকে বাড়ি এনে কবর দেয়। এর কয়েক দিন পর রুপা তাঁর পরিবারকে জানান, ওই চার যুবক তন্ময়কে হত্যা করেছে। পরে তন্ময়ের স্বজনরা থানায় হত্যা মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। তাই তন্ময়ের ভাই সুব্রত চন্দ্র গত ৫ ফেব্রুয়ারি জামালপুর জেলা জজ আদালতে ওই চার যুবকের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করেন। অভিযুক্ত চারজন বাদীসহ পরিবারটিকে মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।

শিশুটির ভাবি রুপা রানী দাস বলেন, ‘পারিবারিক কলহ মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলে মঞ্জু, রুবা, হেলাল ও নুর মোহাম্মদ আমার কাছ থেকে তন্ময়কে নিয়ে আটকে রাখার আশ্বাস দিয়েছিল। অথচ ওরা ওই দিনই তন্ময়কে মেরে ফেলে। এটা আমি চাইনি। ’ শিশুটির মা পার্বতী রানী দাস বলেন, ‘আমার শিশুপুত্রকে হত্যার অভিযোগে দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে আমার জ্যেষ্ঠপুত্র সুব্রত চন্দ্র দাস চারজনের বিরুদ্ধে জামালপুর আদালতে অভিযোগ করেছে। এ খবর জেনে অভিযুক্ত যুবকরা অভিযোগ তুলে নিতে আমাদের দফায় দফায় হুমকি দিচ্ছে। ’ তন্ময়ের পিতা শংকর চন্দ্র দাস বলেন, ‘আমরা সংখ্যালঘু। টাকা-পয়সা নাই, জোরও নাই। বখাটেরা আমার শিশুপুত্রকে মাইরা ফালাইছে। ওরাই আবার থানায় বসে অভিযোগ তুলে নিতে হুমকি দিয়েছে। অথচ দেওয়ানগঞ্জ থানা-পুলিশ কোনো সহযোগিতা করছে না। ’

দেওয়ানগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘তন্ময় চন্দ্র দাস ৩১ ডিসেম্বর পানিতে পড়ে মারা গেছে বলে জেনেছি। ওই সময় তন্ময়ের পরিবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি সাপেক্ষে বিনা ময়নাতদন্তে লাশ থানা থেকে নিয়ে কবর দেয়। এ ছাড়া শিশুটিকে হত্যার বিষয়ে কেউ থানায় এসে অভিযোগ করেনি। আদালতের নির্দেশের কোনো কাগজপত্রও হাতে পাইনি। ’


মন্তব্য