kalerkantho


আওয়ামী লীগের সভায় অতিথি নাজমুল হুদা

দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আওয়ামী লীগের সভায় অতিথি নাজমুল হুদা

ঢাকার দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের জনসভা কাল শনিবার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করা হয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে।

এ সভায় সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদাকে বিশেষ অতিথি করা হয়েছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গণসংবর্ধনা ও জনসভা। মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি উন্নয়ন খাতবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে সংবর্ধনা দিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ব্যক্তিগত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আসতে ওবায়দুল কাদের অনীহা প্রকাশ করায় অনুষ্ঠানটির নাম পাল্টে ‘গণসংবর্ধনা ও জনসভা’ করা হয়েছে। প্রথমে শুধু ‘গণসংবর্ধনা’ দিয়ে পোস্টার করা হলেও পরে ‘গণসংবর্ধনা ও জনসভা’ নামে নতুন করে পোস্টার সাঁটানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা ঢাকা-১ (দোহার) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। বিএনপি সরকারের সাবেক খাদ্য, তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী।

বর্তমান সরকারের আমলে গঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের (বিএনএফ) তিনি আহ্বায়ক ছিলেন। পরে তিনি তৃণমূল বিএনপি গঠন করে এর চেয়ারম্যান হন।

পোস্টারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নাজমুল হুদার নাম আসার পর থেকে ক্ষোভের সূত্রপাত। জাতীয় রাজনীতির মেরুকরণে নাজমুল হুদার অবস্থান যাই হোক, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা কিছুতে তাঁকে মেনে নিতে পারছে না।

আওয়ামী লীগ নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর নাজমুল হুদার অত্যাচারের কথা তারা ভুলতে পারেননি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ১৫ আগস্ট শোক দিবস তাঁরা পালন করতে পারতেন না। গ্রামে গ্রামে গিয়ে নাজমুল হুদার নির্দেশে বিএনপি নেতাকর্মীরা শোক দিবসের জন্য রান্না করা খিচুড়ি লাথি মেরে ফেলে দিয়ে তা কুকুর দিয়ে খাইয়েছে। মিলাদের জন্য রান্না করা খিচুড়ি পুকুরে ফেলে দিয়েছে। নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে বাড়িছাড়া করেছে। ২০০৪ সালে দোহারের দুই হাজার নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। ওই সময় পুলিশ দেখে গ্রেপ্তার এড়াতে মা-বাবার জানাজা থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন এক আওয়ামী লীগ কর্মী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা জেলা ও দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা বলেন, ‘পিঠ বাঁচাতে এবং দুর্নীতির মামলা থেকে বাঁচতে হুদা তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর জয়গান গাইছেন। কিন্তু তৎকালে এই হুদার নির্যাতনের ভয়ে আওয়ামী লীগের কোনো নেতাকর্মী একটি রাত বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি। মিথ্যা মামলায় পুলিশ দিয়ে ধরে এনে নির্যাতন চালানো হয়েছে। দোহারের কোনো এলাকায় অজ্ঞাতপরিচয় একটি লাশ পাওয়া গেলে সেটিকে হত্যাকাণ্ড দেখিয়ে নেতাকর্মীদের নামে মামলা দিয়েছে। কারো কারো বিরুদ্ধে চার-পাঁচটি করে মামলা রয়েছে। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দোহার পৌর যুবলীগের এক নেতা বলেন, ‘রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলার পর জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে নাজমুল হুদা বলেছিলেন, শেখ হাসিনা ভ্যানিটি ব্যাগে করে গ্রেনেড নিয়ে এসেছিলেন। নৌকায় ভোট দেওয়ার অপরাধে লটাখোলার সামাদকে প্রকাশ্যে বিবস্ত্র করে ঘোরানো হয়েছিল। প্রকাশ্যে হুদার বাহিনী কার্তিকপুর বাজারে মিছিলে হামলা করে আওয়ামী লীগ নেতা খলিল কাজীকে পিটিয়ে হত্যা করেছিল। তখন ওই মিছিলে থাকা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল আহত হয়েছিলেন। মুকুসুদপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মনিরকে হুদার বাহিনী হত্যা করে লাশ ফেলে রেখেছিল। হুদার নির্দেশে ক্লিন হার্ট অপারেশনের নামে দোহার পৌর যুবলীগের আহ্বায়ক মোশারফ দেওয়ানকে ধরা হয়েছিল। তাঁকে পিটিয়ে চোখে মরিচের গুঁড়া ঢুকিয়ে দিয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ’ এ বিষয়ে দোহার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইফতার মাহফিলে যেদিন নাজমুল হুদাকে দেখেছিলাম, সেদিন চোখের জল ধরে রাখতে পারিনি। হুদার সময় দোহারে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছি আমি। ১৩টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল আমার নামে। নির্যাতনও করা হয়েছে। তার পরও দলীয় হাইকমান্ড যেহেতু ওনাকে (হুদা) মেনে নিয়েছে। সেখানে আমাদের মেনে না নিয়ে উপায় কি?’


মন্তব্য