kalerkantho


গাজীপুরে এক দড়িতে তরুণ-তরুণীর লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গাজীপুরের একটি বাসা থেকে এক দড়িতে ঝুলন্ত তরুণ-তরুণীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে মহানগরের বোর্ড বাজারের কামারজুরি এলাকা থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়।

তাঁরা হলেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সাদুল্যাহ গ্রামের গোলাম বারীর (মৃত) ছেলে সাজেদুল ইসলাম (২৫) ও ঝালকাঠি সদরের ত্রিপলীতা গ্রামের মো. হানিফের মেয়ে হানুফা বেগম (২২)।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ওই এলাকার কাউন্সিলর মো. মনির হোসেন বলেন, সাজেদুল স্ত্রী নিয়ে কামারজুরির ডা. শাহআলমের বাসায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। এই দম্পতির দুই বছরের এক মেয়ে রয়েছে। এরই মধ্যে পোশাক শ্রমিক হনুফার সঙ্গে সাজেদুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিছুদিন আগে সাজেদুলের স্ত্রী বাপের বাড়ি বেড়াতে যান। সাজেদুল মঙ্গলবার বিকেলে হনুফাকে ভাড়া বাসায় নিয়ে আসেন। সন্ধ্যার পর ঘরে দুজনকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে থানায় খবর দেওয়া হয়। রাত ১২টার দিকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

সাজেদুলের বন্ধু আলমগীর হোসেন জানান, হনুফাকে তিনি চেনেন না।

মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কারখানা ছুটি থাকায় তিনি সাজেদুলের সঙ্গে দেখা করতে বাসায় যান। তিনি ডাকাডাকি করে ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে জানালায় উঁকি দিয়ে দেখেন, গলায় দড়ি লাগানো অবস্থায় ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছেন সাজেদুল ও হনুফা। পরে তিনি ঘটনাটি প্রতিবেশীদের জানান।

সাজেদুলের বড় ভাই সবজি বিক্রেতা রেজাউল ইসলাম জানান, সাজেদুল তিন বছর আগে বিয়ে করেছেন। তবে এখনো স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি যাননি। হনুফাকে তাঁরা চেনেন না। তাঁদের মৃত্যুর কারণও জানেন না। হনুফার মা বৃদ্ধা সাঈদা বেগম জানান, বোর্ড বাজারের সাইনবোর্ড এলাকায় ভাড়া থেকে হনুফা ও তাঁর স্বামী পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। তাঁদের একমাত্র সন্তানের বয়স ছয় বছর। কারখানা বন্ধ থাকায় হনুফা মঙ্গলবার বাসায় ছিলেন। বিকেল ৩টার দিকে বাইরে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন হনুফা। রাত ১২টার দিকে সাঈদা বেগম জানতে পারেন, সাজেদুলের বাসায় হনুফার লাশ ঝুলছে।

জয়দেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান জানান, প্রেমের সম্পর্কের জেরে কোনো ঘটনায় ওই দুজন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তাঁদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


মন্তব্য