kalerkantho


নিজেই ফেঁসে গেলেন সাতক্ষীরার মজিদ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নিজেই ফেঁসে গেলেন সাতক্ষীরার মজিদ

কিশোর ইস্রাফিল

নিজের ছেলেকে অপহরণের পর ইটভাটায় জীবন্ত হত্যার অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছিলেন সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার তারানিপুর গ্রামের আবদুল মজিদ। এর ১৯ দিন পর গতকাল বুধবার পুলিশ গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া গ্রামের ফুফুর বাসা থেকে ওই ছেলেকে উদ্ধার করে।

অন্যকে ফাঁসানোর জন্যই ছেলেকে বোনের বাসায় লুকিয়ে রেখে ওই নাটক সাজানো হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বাবার পাওনা টাকা আনতে বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ইটভাটায় গিয়ে নিখোঁজ হয় কিশোর ইস্রাফিল। ব্যাপক খোঁজাখুঁজির পরও তার হদিস না মেলায় আদালতে মামলা করেন তার বাবা আবদুল মজিদ। মামলায় উল্লেখ করা হয়, ইটভাটার মালিক, ব্যবস্থাপকসহ তাঁদের সহযোগীরা তাঁর ছেলেকে অপহরণের পর ইটভাটায় জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। ঘটনাটি ঘটে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বংশীপুর গ্রামে। ঘটনার ১৯ দিন পর বুধবার বিকেলে  পুলিশ গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া গ্রামে ফুফুর বাসায় আত্মগোপনে থাকা ইস্রাফিলকে আটক করে। এ সময় তার ফুফু মরিয়ম আক্তার সাথী ও ফুফাতো বোন মর্জিনা আক্তারকেও আটক করা হয়। শ্রীপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক আবুল হাসান জানিয়েছেন, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে আবদুল মজিদ তাঁর ছোট বোনের বাসায় ছেলেকে রেখে অপহরণ, হত্যাসহ লাশ গুমের সাজানো অভিযোগ করে মামলা করেছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার তারানিপুর গ্রামের আবদুল মজিদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব ছিল পইখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রহিমের।

পাশের বংশীপুর গ্রামে একটি ইটভাটাও রয়েছে আবদুর রহিমের। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ২ ফেব্রুয়ারি পাওনা টাকা আনতে গেলে তাঁর ছেলে ইস্রাফিলকে অপহরণ করে আবদুর রহিম ও তাঁর সহযোগীরা ইটভাটায় জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করেন। পরে তিনি শ্যামনগর থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে ওসি তা নেননি। নিরুপায় হয়ে তিনি সাতক্ষীরা আমলি আদালতে আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। পরে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

শ্রীপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক আবুল হাসান জানান, ওই মামলার আসামিরা তাঁকে ঘটনা জানানোর পাশাপাশি ইস্রাফিলের অবস্থানও নিশ্চিত করে। পরে তিনি গতকাল দুপুরে আত্মগোপনে থাকা ইস্রাফিলকে আটক করেন। এ সময় ইস্রাফিলের ফুফু ও ফুফাতো বোনকেও আটক করা হয়। এসআই আবুল হাসান আরো জানান, দেড় বছর ধরে ইস্রাফিলের ফুফু মরিয়ম আক্তার সাথী শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া বাজারের পাশে এক বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তিনি ও তাঁর মেয়ে মর্জিনা পাশের একটি কারখানায় চাকরি করেন। তবে মরিয়ম আক্তার সাথী পুলিশের কাছে দাবি করেন, তাঁর ভাতিজা ইস্রাফিল তাঁর কাছে বেড়াতে এসেছিল। তাঁর ভাই কোনো অপহরণ, হত্যাসহ গুমের অভিযোগ করেছিলেন কি না, তিনি কিছুই জানতেন না। শ্যামনগর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ইস্রাফিল উদ্ধার হয়েছে বলে খবর পেয়েছি। তাকে আনতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানায় যাচ্ছেন। ইস্রাফিলকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। ’


মন্তব্য