kalerkantho


ভোলার মনপুরায় সংঘর্ষ আহত অর্ধশত

পুলিশের গুলি, ৩০ জন বিদ্ধ

ভোলা প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পুলিশের গুলি, ৩০ জন বিদ্ধ

ভোলার মনপুরায় পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের অ্যাকশন। এ ঘটনায় পুলিশ, সাংবাদিক, পথচারীসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ ৩০ জনকে মনপুরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

ভোলার মনপুরায় পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক, পথচারীসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে।

আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ কমপক্ষে ৩০ জনকে মনপুরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মনপুরা থানার ওসির সঙ্গে ব্যবসায়ীর বাগিবতণ্ডার জের ধরে বুধবার সকালে উপজেলা সদরের হাজিরহাট বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ৯টার দিকে মনপুরা থানার ওসি শাহীন খানের সঙ্গে উপজেলা সদরের হাজিরহাট বাজারের ফল ব্যবসায়ী হারুনের বাগিবতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ওসি শাহীন ক্ষুব্ধ হয়ে হারুন, হাসান ও আব্দুর রহমানের ফলের দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের মারধর ও দোকান বন্ধ করে দেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বাজারের ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওসির ঔদ্ধত্ব্যপূর্ণ আচরণের প্রতিবাদে সব দোকানপাট বন্ধ করে প্রতিবাদ জানায়। এতে ওসি আরো ক্ষুব্ধ হয়ে বাজারে এসে জড় হওয়া ব্যবসায়ীদের ওপর চড়াও হন। তিনি ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। ফলে ব্যবসায়ীরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে পুলিশ, ব্যবসায়ী, সংবাদিক, পথচারীসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ খোরশেদ আলম কুট্টি, শোয়েব, ইব্রাহীম, নাহিদ, কবির, হারুন, আরিফ, তরিকুল, নুরুদ্দিন, শরিফ, আবু তাহের, ইব্রাহীম, আব্দুর রহমান, হারুন, রাকিব, হোসেন, মিজান, জামাল, হেলাল, মালেক, মোসলেহ উদ্দিন, লিটন ফরাজী, নুরুল ইসলাম, নুরু, উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল মাতব্বরসহ কমপক্ষে ৩০ জনকে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তজুমদ্দিন থানার ওসি শাহীন খান, এএসআই প্রদীপ, কনস্টেবল জুনায়েদ, আরিফ বিল্লাহ, জসিম, আবদুল হালিম, নাঈম ও সাংবাদিক নজরুল ইসলাম মামুন রয়েছেন।

এ ব্যাপারে হাজিরহাট বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন বলেন, ওসির অতিরঞ্জিত দুর্ব্যবহারের কারণে এ ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছে। ওসির এমন কাণ্ডের কারণে সৃষ্ট ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ওসির শাস্তি দাবি করেন তিনি।

মনপুরা থানার ওসি শাহীন খান বলেন, ‘রাস্তার ওপর ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে ফল বিক্রি করায় আমি তাদের সরে যাওয়ার জন্য বলেছি। পরে ব্যবসায়ীরা আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ’

মনপুরা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুর রশীদ বলেন, হাসাপাতালে ৩১ জন চিকিৎসা নিয়েছে। তবে আতঙ্কে সবাই হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।

বিকেলে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত উপজেলা সদরের বাজারে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছিল। যেকোনো সময় ফের সংঘর্ষের আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা।

পুলিশ সুপার মো. মোকতার হোসেন জানান, ব্যবসায়ীর দোকান সরিয়ে ফেলা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষই আহত হয়েছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত বলেও জানান এসপি।


মন্তব্য