kalerkantho


রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচন

বিএনপির পথসভায় আ. লীগের ‘হামলা’

পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে পরস্পরকে দোষারোপ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগকর্মীরা বিএনপির পথসভায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার বিকেলের এ ঘটনায় আহত হয়েছে কয়েকজন বিএনপিকর্মী।

পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে আওয়ামী লীগ নেতারা সংবাদ সম্মেলন করে বলেছেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে দলটির লোকজন ওই ঘটনা ঘটায়। আর শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ বিনষ্ট করাসহ ঘটনার জন্য আওয়ামী লীগকর্মী-সমর্থকদের দায়ী করে শাস্তির দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে বিএনপি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় উপজেলার খালগোড়া বাজারের চৌরাস্তায় বিএনপির প্রার্থীর পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী পথসভার আয়োজন করা হয়। আওয়ামী লীগ পদপ্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা পথসভা থেকে ৫০ গজ দূরে জাগিরিয়া মাদ্রাসার সামনে থেকে একটি মিছিল বের করে বিএনপির পথসভার দিকে আসে। আওয়ামী লীগকর্মীরা পথসভার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় পথসভার মাইক ও চেয়ার ভাঙচুর করে। এ সময় বিএনপির ছয় থেকে আটজন কর্মী আহত হয়। এ নিয়ে পরে দুই দলের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়। পুলিশ গিয়ে দুই দলকে সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।

রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপনির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেন আকন উপজেলা সদরের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে ঘটনাস্থলে পথসভার আয়োজন করা হয়। পথসভার মাঝামাঝি সময়ে রাঙ্গাবালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাইদুজজ্জামান মামুনের নেতৃত্বে প্রায় ৫০ জন আওয়ামী লীগকর্মী এসে হামলা চালায়। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্তত আট নেতাকর্মী আহত হয়। ভাঙচুর করা হয় সভাস্থলের মাইক ও চেয়ার। হামলা চালাকালীন রাঙ্গাবালী থানার পুলিশ আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নেয়। ’ ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার্থে ঘটনার জন্য দায়ীদের শাস্তিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর ও নিরপেক্ষ হওয়ার দাবি জানান তিনি। অন্যদিকে গতকাল বুধবার দুপুরে উপজেলা প্রেস ক্লাবে উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেন, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ওই ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘বিএনপির নিজেদের মধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটলেও তারা ষড়যন্ত্রমূলক আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমিসহ আমার কোনো কর্মী বা সমর্থক এ ঘটনায় কোনোভাবেই জড়িত নেই। বিএনপির প্রার্থীর এমন মিথ্যা অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। ’ উভয় সংবাদ সম্মেলনে দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিল। রাঙ্গাবালী থানার ওসি সামসুল আরিফিন বলেন, ‘কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আওয়ামী লীগ-বিএনপির মধ্যে একটু উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ তা মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণ করে। ’

২০১৬ সালের ২ জুলাই রাঙ্গাবালী উপজেলা চেয়ারম্যান আহসান কবির চাঁনের মৃত্যুতে পদটি শূন্য হয়। আগামী ৬ মার্চ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচন হবে।


মন্তব্য