kalerkantho


দিরাই-শাল্লা আসনে উপনির্বাচন

সুরঞ্জিতের ঘর থেকে প্রার্থী চায় তৃণমূল

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পরিবার থেকে উপনির্বাচনে প্রার্থী হলে দলে ঐক্য বজায় থাকবে। নইলে তৃণমূলে সংগঠিত আওয়ামী লীগ বিশৃঙ্খল হয়ে পড়বে। তা ছাড়া অন্য আসনের সঙ্গে এ আসনের ভোটের হিসাব মিলবে না। এখানে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বিশাল ভোটব্যাংক রয়েছে। যাদের সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পরিবারের প্রতি আলাদা টান আছে। ’

এভাবেই সদ্য প্রয়াত জাতীয় নেতা দিরাই-শাল্লা আসন থেকে সাতবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের আসনে আগামী ৩০ মার্চ অনুষ্ঠেয় উপনির্বাচন প্রসঙ্গে নিজের মতামত দেন দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজ উদ দৌলা তালুকদার।

তাঁর কথার সূত্র ধরেই শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা অলিউল হক বলেন, দিরাই-শাল্লার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সবাই সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে নেতা মানত। মান-অভিমান থাকলেও তাঁর নির্দেশনা অমান্য করত না কেউ। দীর্ঘদিন ধরে সংসদ সদস্য থাকায় এলাকার প্রতিটি গ্রামের দলীয় সাধারণ কর্মী পর্যন্ত তাঁর পরিচিত ছিল। সে হিসেবে তিনি সবার ভালোবাসাও পেয়েছিলেন। এসব কারণে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পরিবারের প্রতিও সাধারণ মানুষের বিশেষ ভালোবাসা রয়েছে।

এ আসনে উপনির্বাচনে তাঁর পরিবারের কেউ প্রার্থী হলে কোনো নেতাকর্মী দ্বিমত হবে না। বিশেষ করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের স্ত্রী (যিনি তাঁর রাজনৈতিক সহচরও) জয়া সেনগুপ্তের কথাই ভাবছে নেতাকর্মীরা।

সূত্র মতে, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দলীয় প্রার্থী হিসেবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পরিবারের সদস্যদের পছন্দের কথা জানানো হয়। এদিকে এ আসনটি শূন্য ঘোষণা করার পর আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী মাঠে নেমেছেন। মনোনয়ন পেতে তদবির শুরু করেছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মতিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন, প্রয়াত জাতীয় নেতা স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য আবদুস সামাদ আজাদের ছেলে আজিজুস সামাদ ডন, দিরাই পৌরসভার সাবেক মেয়র আজিজুর রহমান বুলবুল, সত্তরের নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আলী আমজাদ চৌধুরীর ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী বিপ্লব, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সাবেক এপিএস ডালটন চৌধুরী, শাল্লা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অবণী মোহন দাস প্রমুখ। বিএনপি সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিলেও ওই ঘরানার একাধিক ব্যক্তি নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে। জাসদ থেকে সালেহীন চৌধুরী ও জাতীয় পার্টি থেকে জামিল চৌধুরীর নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকায় আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহলের একটি ঘরোয়া বৈঠক হয়েছে। সেখানে জয়া সেন প্রার্থী না হলে তিনি কাকে সমর্থন দেবেন এমন বিষয় নিয়েও কথা হয়েছে। সূত্র জানিয়েছে, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পরিবারের কেউ প্রার্থী না হলে তাঁর আসনে তাঁর পরিবার আজিজুর রহমান বুলবুলকে সমর্থন দিতে পারে। ক্লিন ইমেজের তরুণ রাজনীতিবিদ বুলবুলের প্রতিও দিরাইয়ের মানুষের বিশেষ টান রয়েছে। এ আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট শামছুল ইসলাম বলেন, ‘দাদা ছিলেন আমাদের রাজনৈতিক গুরু। তাঁর আশীর্বাদ ও স্নেহধন্য হয়ে আমরা রাজনীতি করেছি। এখন তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্নপূরণের দায়িত্ব আমাদের। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমি দলীয় সমর্থন কামনা করছি। ’ তবে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পরিবারের কেউ প্রার্থী হলে তিনি তাঁদের সমর্থন জানাবেন।

দিরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিরাম তালুকদার বলেন, ‘বুধবার আমরা ৬৭ সদস্যের মধ্যে ৫১ জন বৈঠক করে নেতার পরিবার থেকেই প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে একমত হয়েছি। ’ এ ব্যাপারে শাল্লা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিমচন্দ্র দাশ বলেন, ‘আমরা বুধবার কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ডেকে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের পরিবার থেকে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। লিখিতভাবে বিষয়টি দু-এক দিনের মধ্যে কেন্দ্রকে জানাব। ’


মন্তব্য