kalerkantho


খবর পেয়ে গাছ জব্দ

রূপগঞ্জে বন বিভাগের গাছ কাটল সওজ

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বন বিভাগের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে ফেলেছেন সড়ক ও জনপথের (সওজ) কর্মকর্তারা। খবর পেয়ে উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা গিয়ে ওই গাছ জব্দ করেছেন।

এদিকে জব্দ করা গাছ ফেরত দিতে বন বিভাগের কর্মকর্তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার উপজেলার এশিয়ান হাইওয়ে (বাইপাস) সড়কের পশ্চিম পাশের বন বিভাগের গাছ কেটে ফেলা হয়।

বন বিভাগ ও বনায়ন উপকারভোগী সূত্রে জানা যায়, সামাজিক বনায়নের আওতায় ১৯৯৫-৯৬ সালে গোলাকান্দাইল থেকে কাঞ্চন এলাকা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি চুক্তিভিত্তিক নেয় বন বিভাগ। ওই চুক্তিতে বলা হয়, বাগান থাকা পর্যন্ত গাছ কাটা যাবে না। আর বাগান বিক্রি করতে হলে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করতে হবে। পরে আবার চুক্তি করে বাগান গড়ে তোলা যাবে। আর বাগান বিক্রির ১০ শতাংশ সুবিধা পাবে পানি উন্নয়ন বোর্ড, ৫ শতাংশ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, ৬৫ শতাংশ স্থানীয় উপকারভোগী, ১০ শতাংশ বন বিভাগ আর বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পাবে ১০ শতাংশ।

সূত্র মতে, বন বিভাগের উপকারভোগী সদস্যের সংখ্যা ৭৭ জন। গত সোমবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের লোকজন অনুমতি ছাড়াই গোলাকান্দাইল এলাকার বন বিভাগের বিভিন্ন প্রজাতির ২০-২৫টি গাছ কেটে ফেলে।

স্থানীয় উপকারভোগীরা বিষয়টি উপজেলা বন বিভাগ কর্মকর্তাকে জানায়। পরে উপজেলা বন বিভাগ কর্মকর্তা সঞ্জয় হাওলাদার এসে কেটে ফেলা গাছগুলো জব্দ করেন।

উপকারভোগী মজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা ৭৭ জন সদস্য বছরের পর বছর বন বিভাগের এ বাগান পাহারা দিয়ে গাছ বড় করেছি। এখন আমরা লাভের আশায় আছি। অথচ গাছগুলো কেটে নেওয়া হচ্ছে। ’

উপজেলা বন বিভাগ কর্মকর্তা সঞ্জয় হাওলাদার জানান, উপকারভোগীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে বন বিভাগের গাছ কাটতে নিষেধ করা হয়েছে। এ ছাড়া কেটে ফেলা গাছ জব্দ করা হয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে তাঁকে জানানো হয়েছে যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আর বুরি কালচার শাখা থেকে টেন্ডার নিয়ে গাছ কাটা হচ্ছে। এ ছাড়া জব্দ গাছ ফেরত নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ দিচ্ছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের এসডিও মনোয়ারুল ইসলাম। তিনি আরো জানান, বাগান যত দিন কাটা না হবে, তত দিন পর্যন্ত নবায়ন করতে হবে না। বাগান কাটা হলে নবায়ন করতে হবে। অন্যায়ভাবে গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথ বিভাগের এসডিও মনোয়ারুল ইসলাম বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে বন বিভাগের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে আরো ১০ বছর আগে। এরপর বন বিভাগ আর চুক্তি নবায়ন করেনি। বর্তমানে গাছগুলো সড়ক ও জনপথ বিভাগের।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা ইসলাম বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ অনুমতি ছাড়া বন বিভাগের গাছ কাটতে পারে না। বিষয়টি উভয় বিভাগের কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।


মন্তব্য