kalerkantho


হাজী দানেশ বিশ্ববিদ্যালয়

চেয়ার টানার শব্দে বিরক্তি, হাঙ্গামা

পুলিশসহ আহত ৮

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে চেয়ার টানার শব্দে বিরক্তির জেরে ছাত্রদের সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে তিন পুলিশ, শিক্ষার্থীসহ আটজন আহত হয়েছে।

দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে। ১০ রাউন্ড শটগানসহ রাবার বুলেট ছুড়ে গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

সংঘর্ষে জড়িতরা ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার একাংশ এবং স্থানীয় যুবলীগের নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষ মামলা করেনি।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় যুবলীগকর্মী হান্নানের বোন পারভীন গ্রন্থাগারের অস্থায়ী কর্মী। পাঠকক্ষে তাঁর চেয়ার টানার সময় সৃষ্ট শব্দে বিরক্ত হয় শিক্ষার্থীরা। এ কারণে গত সোমবার দুপুরে তাঁর সঙ্গে কয়েকজন ছাত্রের তর্ক হয়। একপর্যায়ে তাঁকে গ্রন্থাগারের একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। ঘটনাটি অতিরঞ্জন করে বাইরে ছড়িয়ে দেন আরেক কর্মী মোকাররম।

দলীয় কর্মীদের সহায়তায় বিকেলে বোনকে উদ্ধার করেন হান্নান। এ সময় বিবিএর তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আলাউদ্দিন ও আরেক ছাত্রকে লাঞ্ছিত করেন তাঁরা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বাঁশেরহাট বাজারে ওই যুবলীগকর্মীর বাড়ির আশপাশের তিনটি দোকান ভাঙচুর করে শতাধিক ছাত্র। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দফায় দফায় চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ। বাঁশেরহাট বাজারে সাত-আটটি দোকান ভাঙচুর করা হয়। ছবি তুলতে গেলে গণমাধ্যমকর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ে ছাত্ররা। সংঘর্ষে মত্স্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রনি, তৃতীয় বর্ষের ছাত্র মোস্তফা জামান ও আজিজ আহত হন। এ সময় মহাসড়কে দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাত ৮টার দিকে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ।

আওয়ামী লীগের কোতোয়ালি কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন বলেন, ‘উভয় পক্ষকে শান্ত করতে রাতে আলাদাভাবে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কথায় কথায় তুচ্ছ ঘটনাকে বড় আকার না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এলাকাবাসীর সঙ্গে অশান্তিতে না জড়াতে ছাত্রদের সতর্ক করা হয়েছে। ’


মন্তব্য