kalerkantho


২০ বছরেও খোলেনি ‘দরজা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



২০ বছরেও খোলেনি ‘দরজা’

ঢাকা বিভাগীয় বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় ২০ বছরেও চালু হয়নি। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুর মহানগরীর পূর্ব ভুরুলিয়ায় ১৯৯৮ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল ঢাকা বিভাগীয় বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তার অফিস। আনুমানিক ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই অফিস ২০ বছরেও চালু হয়নি। অফিসটি যেন এলাকাবাসীর ‘গলার কাঁটা’।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য, বন ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ এবং তাদের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে পূর্ব ভুরুলিয়ার পাঁচ একর জমিতে ঢাকা বিভাগীয় বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তার অফিস স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে অনুযায়ী নির্মাণ করা হয় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও), সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ), রেঞ্জ ও বিট কর্মকর্তার অফিস, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও একটি বাংলোসহ ছয়টি ভবন। কিন্তু ‘অজ্ঞাত’ কারণে ২০ বছরেও অফিসটি চালু করা হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনগুলোর অধিকাংশ জানালা-দরজা নেই। প্রশাসনিক মূল ভবনের পেছনের দেয়াল ভাঙা। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দরজা-জানালার একটিও নেই, টিনের চাল ফুটো। অন্য ভবনগুলোর দেয়ালজুড়ে ফাটল। অফিসের সামনের ফটকে অপেক্ষাকৃত নতুন একটি সাইনবোর্ডে রয়েছে।

তাতে লেখা রয়েছে ‘অস্থায়ী কর্যালয়’ বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক। তবে বন্য প্রাণী বা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই।

অফিসের নিরাপত্তাকর্মী আনোয়ার হোসেন জানান, তিনিসহ পাঁচজন নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। বাকিরা বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় দেড় বছর ধরে তিনি একাই আছেন। বড় কর্মকর্তারা মাঝেমধ্যে আসেন। শুনেছেন আরো এক নিরাপত্তা কর্মীকে এখানে পোস্টিং দেওয়া হয়েছে, তবে তিনি এখনো কাজে  যোগ দেননি।

গাজীপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও স্থানীয় বাসিন্দা জামাল উদ্দিন সরকার জানান, বন্য প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঢাকায় অফিস ও বসবাস করেন। অথচ ‘বন রাক্ষসদের’ কবলে পড়ে প্রতিদিনই ধ্বংস ও দখল হচ্ছে গাজীপুরের বনভূমি। কমে যাচ্ছে বনভূমির আয়তন। অন্যদিকে অফিসটি নির্জন স্থানে হওয়ায় সেখানে পতিতাবৃত্তি, ছিনতাই, চুরি, মাদকসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে।

অফিসটি চালু না হওয়ায় বন কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শওকত আলাম বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণ-তরুণীরা এখানে এসে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে। এতে এলাকার সুনাম নষ্ট হচ্ছে। আবার জায়গাটি মাদক সেবন ও বিক্রির আস্তানায় পরিণত হয়েছে। বেড়েছে চুরি-ছিনতাই। অফিসটি চালু হলে বন রক্ষার পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হ্রাস পাবে, আর কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদও রক্ষা পাবে বলে মনে করেন তিনি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ঢাকা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা জহিরউদ্দিন আকন্দ জানান, অফিসটি কী কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। দ্রুতই অফিসটি চালু করা যাবে বলে তিনি আশা করেন।


মন্তব্য