kalerkantho


আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

ভাষার টানে হিলিতে দুই বাংলার মানুষ

ছাইদুল হক সাথী, হিলি থেকে ফিরে   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) বসছে দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা। একই মঞ্চে দিবসটি উদ্‌যাপন করবে বাংলাভাষীরা। ভিসা সমস্যায় না পড়লে বাংলাদেশের একুশের মঞ্চে যোগ দেবেন ভারতের প্রতিনিধিসহ কবি, সাহিত্যিক ও সংবাদকর্মীরা।

দুই বাংলার শূন্যরেখায় আগে দুই দেশের বাংলা ভাষাপ্রেমীরা পৃথকভাবে দিবসটি পালন করত। ২০১৫ সাল থেকে হিলিতে একই মঞ্চে একুশে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। দিবসটি উদ্‌যাপন উপলক্ষে হিলি সীমান্তের চেকপোস্টের শূন্য আঙিনায় রেললাইন ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে মঞ্চ ও অস্থায়ী শহীদ মিনার। হাকিমপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড এবং সাপ্তাহিক আলোকিত সীমান্ত যৌথভাবে দিবসটির আয়োজন করে। ভারতের পক্ষে এতে সহযোগিতা করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘উজ্জীবিত সোসাইটি’।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. লিয়াকত আলী জানান, সকালে অস্থায়ী শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে দিবসের কার্যক্রম শুরু হবে। দুপুরে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি রয়েছে।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য শিবলী সাদিক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আওয়ামী লীগ, পৌরসভা, স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও সুশীল সমাজের নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিত থাকার কথা। এ ছাড়া উপস্থিত থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের বালুরঘাটের আমন্ত্রিত অতিথিরা।

সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে। সে সময় হিলি সীমান্তের ওপারে ভারতীয় কয়েকটি রাজ্যের ভাষাপ্রেমীরা দিবসটি পালনের আগ্রহ দেখায়। তখন থেকে নাচ, গান, আবৃত্তি ইত্যাদির মধ্য দিয়ে দুই দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলকে একসঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার দিন হিসেবে শূন্যরেখায় পৃথক দুটি মঞ্চ করে মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়। তখন এপার-ওপার বাংলার ভাষাপ্রেমীদের মেলবন্ধনের একমাত্র ভরসা ছিল লাউড স্পিকার। এপারের অনুষ্ঠান ওপারে মাইকে এবং ওপারের অনুষ্ঠান এপার থেকে মাইকে শুনে বাড়ি ফিরতে হতো তাদের। গত দুই বছর ধরে একই মঞ্চে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

হিলি থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক আলোকিত সীমান্তের সম্পাদক ও আয়োজক কমিটির সদস্য জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ দুটি দেশ হলেও আমাদের মনে ও প্রাণের দিক থেকে কেউ আলাদা করতে পারেনি। তাই সীমান্তের প্রাচীর ও কাঁটাতারের বেড়া কোনো বাধা নয়। আমরা যৌথভাবে এপার-ওপার বাংলা ভাষাভাষীরা হিলি সীমান্তে একই মঞ্চে মাতৃভাষা দিবস উদ্‌যাপনের আয়োজন করেছি। দিবসটি নিয়ে দুই বাংলার মানুষের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে। ’

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, গর্বের এই ভাষা দিবস উদ্‌যাপনের জন্য আয়োজকদের সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। জয়পুরহাট ২০ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমতিয়াজ চৌধুরী বলেন, শূন্যরেখায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তাসহ সার্বিক সহযোগিতা চেয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক, বিজিবির দিনাজপুর সেক্টর কমান্ডার, পুলিশ সুপার, অধিনায়ক ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন তাঁরা।


মন্তব্য