kalerkantho


মহম্মদপুরে আ. লীগে হাঙ্গামা, আহত ৫০

অর্ধশত বাড়ি ভাঙচুর

মাগুরা প্রতিনিধি   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মহম্মদপুরে আ. লীগে হাঙ্গামা, আহত ৫০

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়ায় গতকাল সোমবার আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। অর্ধশতাধিক ঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০৮ রাউন্ড শটগানের গুলি ও ১৬ রাউন্ড টিয়ার গ্যাসের শেল ছুড়েছে।

বালিদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মিনারের সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ইউনুস আলী সর্দারের বিরোধে এ সংঘর্ষ হয়।

আওয়ামী লীগ কর্মী আবু রইস ও জলিল মোল্যা জানান, রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে মফিজুর ও ইউনুসের মধ্যে বিরোধ দীর্ঘদিনের। কিছুদিন আগে গ্রাম্য দলাদলির সময় দক্ষিণপাড়ার ইউসুফ মোল্যাসহ মফিজুরের বেশ কয়েকজন সমর্থক ইউনুসের দলে যোগ দেয়। এ নিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় মফিজুর সমর্থকরা ইউনুস সমর্থক ইউসুফের জামাই গোলাপ মিয়ার বাড়িতে চড়াও হয়। তাঁকে না পেয়ে তাঁর স্ত্রী রেবেকাকে মারধর করে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল সকালে ইউনুস সর্দারের সমর্থকেরা জোটবদ্ধ হয়ে মফিজুর রহমান মিনা ও তার সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। সংঘর্ষ বেধে যায়। এ সময় মিনা বংশের কামাল, জামাল, হারুন, রবিউল, আলমগীর, খায়রুল, বাবু, শাদিক, মফিজ, তোছাজ্জেল, রিজাউল, ওসমান, ইস্রাফিল, নবির, নান্নুু, সাইদসহ উভয় পক্ষের ৫০টি পরিবারের অর্ধশতাধিক ঘরে ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে।

এ ছাড়া নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে গুরুতর আহত আজগার আলী (৩০), ফিরোজ মৃধা (৫০), ইতি (২৫), আতিয়ার মোল্যা (৩৫), ওমর শিকদার (৩০), বকুল মোল্যা (৬০), মোস্তফা (৫০), ইদ্রিস মিনা (৩৫), কাজল মিনা (১৮), হারিম মিনা (৫০), লিটন মিনা (৩০), শরিফুল মিনা (৩৪), শরিফুল মিনা (৩৫), নাজমুল মিনা (২০) ও সামাদ মোল্যাকে (৪০) মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মাগুরা সদর হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মফিজুর রহমান দাবি করেন, ‘ইউনুস সর্দার ও তার লোকজন সামান্য ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে আমার লোকজনের বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। আমাদের মিনা গোষ্ঠীর এমন কোনো বাড়ি নেই, যেখানে প্রতিপক্ষ হামলা চালায়নি। প্রস্তুতি না থাকায় আমার বেশির ভাগ লোক মার খেয়েছে। তারা আমার সমর্থকদের বাড়ি বৈদ্যুতিক মিটার ভেঙে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রেখে গেছে। আবার হামলা চালাতে পারে। ’

অন্যদিকে ইউনুস সর্দার বলেন, ‘প্রতিপক্ষের লোকজন প্রথমে আমার লোকজনকে মারধর ও বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে, যা প্রতিরোধ করতে গিয়ে সংঘর্ষ হয়েছে। ’

মহম্মদপুর থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। পুলিশ সুপার (এসপি) মনিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরবর্তী সহিংসতা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ’


মন্তব্য