kalerkantho


গাজীপুর

আগুনে রিকশার সঙ্গে সবুজের স্বপ্নও ছাই

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আগুনে রিকশার সঙ্গে

সবুজের স্বপ্নও ছাই

গাজীপুর নগরীর চতর বাজার এলাকায় গত শনিবার রাতে গ্যারেজে আগুন লেগে পুড়ে গেছে সবুজ মিয়ার ১২টি রিকশা। ছবি : কালের কণ্ঠ

তিল তিল করে জমানো টাকায় গত ২০ বছরে এক এক করে ১২টি রিকশা করেছিলেন চালক সবুজ মিয়া। রিকশা ভাড়ার টাকা দিয়ে বাসা ভাড়া ও সংসার চালাতেন।

কিন্তু গত শনিবার গভীর রাতে গ্যারেজে আগুন লেগে ১২টি রিকশাই পুড়েছে। আগুনে শুধু রিকশাই না, পুড়েছে সবুজের স্বপ্নও।

দরিদ্র সবুজ মিয়া (৪০) ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার কুমড়াশাসন গ্রামের মো. লাল মিয়ার ছেলে। গাজীপুর মহানগরের চতর বাজার এলাকায় ভাড়া থেকে তিনি রিকশা চালান। পাশাপাশি জমানো টাকা দিয়ে গ্যারেজ গড়ে তোলেন।

গতকাল রবিবার দুপুরে চতর বাজারের গ্যারেজে গিয়ে দেখা গেছে, অঙ্গার হয়ে যাওয়া রিকশার দিকে চেয়ে নির্বাক বসে আছেন সবুজ। পাশে উঠানে বসে বিলাপ করছেন স্ত্রী মালেকা খাতুন। প্রতিবেশী ও অন্য রিকশাচালকরা তাঁদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

মালেকা খাতুন বুক চাপড়ে আহাজারি করছেন আর একটাই প্রশ্ন করে চলেছেন, ‘কোনো দিন কারো ক্ষতি করি নাই।

অন্যায় কাজও করি নাই। তাইলে আমাদের এত বড় সর্বনাশ কেন অইল? আমগরে কেন ভিখারি কইরা দিল?’

সবুজ জানান, ২০ বছর আগে তিনি শিমুলতলীর চতর বাজার এলাকায় এসে রিকশা চালাতে শুরু করেন। তিল তিল করে জমানো টাকা দিয়ে যন্ত্রাংশ কিনে কিনে একটা একটা করে ১২টি রিকশা গড়েছিলেন। একটি নিজে চালাতেন। ১১টি দৈনিক ৬০ টাকা করে ভাড়া দিতেন। যন্ত্রাংশ কেনা বাবদ এখনো ২০ হাজার টাকা বাকি রয়ে গেছে।

সবুজ বলেন, ‘বড় ছেলে রশিদের বয়স ২০ বছর। সে গ্যারেজে কাজ করে। ছোট ছেলে আসাদ পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। গ্রামের বাড়িতে ভিটে ছাড়া আর কোনো সম্বল নেই। ইচ্ছে ছিল দোকান বাকির ২০ হাজার টাকা শোধ করে আবার সঞ্চয় করব। সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে দুই সন্তানের জন্য গ্রামের বাড়িতে ঘর তুলব। কিন্তু সর্বনাশা আগুন সব স্বপ্ন পুড়িয়ে দিয়েছে। ’

প্রতিবেশী মফিজ উদ্দিন বলেন, সবুজের গ্যারেজে এক চালক ঘুমিয়ে ছিল। রাত আড়াইটার দিকে আগুন লাগলে সে চিত্কার শুরু করে। বাইরে এসে তাঁরা দেখেন, দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। পরে ফায়ার সাভির্সকে খবর দেওয়া হয়। তারা এসে রাত ৪টার দিকে আগুন নেভায়। সবুজ খুবই সহজ-সরল একজন মানুষ। আগুনে তার জমানো সম্পদ পুড়েছে। রিকশাগুলো এমনভাবে পুড়েছে, ভাঙারি হিসেবে বিক্রি করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। প্রতিটি রিকশার দাম ছয় হাজার টাকা করে সবুজের প্রায় ৭২ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে। এখন সে অনেকটাই নিঃস্ব। সিগারেট বা শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান জানান, শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত গাজীপুরে তিনটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এর মধ্যে সবুজ মিয়ার গ্যারেজও রয়েছে। রবিবার সকালে নগরের ভোগড়া এলাকায় একটি খাবার হোটেল পুড়েছে। নগরের বাংলাবাজার এলাকায় আম্বার কটন মিলে আগুন লেগেছিল। তবে ওই আগুন কারখানার লোকজন নিভিয়ে ফেলেছে।

 


মন্তব্য