kalerkantho


গাজীপুরের কালীগঞ্জে দুর্বাটি মাদরাসায় পরীক্ষা

কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষকদের উত্তর লেখার ছবি ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গাজীপুরের কালীগঞ্জের দুবার্টি এমইউ কামিল মাদরাসায় দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষকদের উত্তরপত্র লিখে দেওয়ার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রতি পরীক্ষায় বাইরে থেকে উত্তরপত্র লিখে পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করা হচ্ছিল। এর সত্যতা পেয়ে কালীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গতকাল রবিবার দুপুরে কেন্দ্রের হল সুপারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। এ ছাড়া তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই কেন্দ্রে উপজেলার ২৯টি মাদরাসা থেকে ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রতিদিন দুর্বাটি মাদরাসার লাইব্রেরিয়ান, কেন্দ্রসংলগ্ন দুর্বাটি দারুচ্ছুন্নাত এতিমখানার সুপারিনটেনডেন্ট মো. নজরুল ইসলাম এবং কেন্দ্রের হল সুপার উপজেলার মূলগাঁও দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. রফিকুল ইসলাম বাইরে থেকে উত্তরপত্র লিখে পরীক্ষার্থীদের সরবরাহ করতেন। এর সঙ্গে শিক্ষকদের একটি চক্রও জড়িত। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আরবি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা থেকে এ কাজ হয়। স্থানীয়রা টের পেয়ে মোবাইল ফোনে ওই দৃশ্য ধারণ করে। এর ভিডিও চিত্র ধারণ করার সময় টের পেয়ে শিক্ষকরা দৌড়ে পালায়।

ভাঙা জানালা দিয়ে পালাতে গিয়ে সালাউদ্দিন ও জাকির নামের দুই শিক্ষক আহত অবস্থায় আটক হয়। পরে তারা স্থানীয়দের কাছে ক্ষমা চেয়ে রক্ষা পেলেও উত্তরপত্র লেখা ও সরবরাহের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান গতকাল ওই কেন্দ্রে অভিযান চালান।

অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে তিনি কেন্দ্রের হল সুপার মো. রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি এবং এতিমখানার সুপারিনটেনডেন্ট মো. নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের ব্যাপারে পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদককে সুপারিশ করেন। এ ছাড়া ওই কেন্দ্র সচিব ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নূর-ই-জান্নাতকে ভিডিও ফুটেজ দেখে এর সঙ্গে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, মূলগাঁও দাখিল মাদরাসার মো. বেলায়েত হোসেন, ফুলদী মাদরাসার মো. বিল্লাল হোসেন, চুপাইর মাদরাসার মো. সালাউদ্দিন, সোলাইমান হোসেন, আইয়ুবুর রহমান, কামরুন নাহার, সারোয়ার হোসেন, জামালপুর মাদরাসার আবদুল করিম, আরিফ হোসেন, বাঘুন মাদরাসার আতাউর রহমান, সাইলদিয়া মাদরাসার ছিদ্দিকুর রহমান, সাওরাইদ মাদরাসার হারুন-অর-রশিদ, জাঙ্গালীয়া সিদ্দিক মিয়া ফাজিল মাদরাসার মো. আব্দুল জলিল, দুর্বাটি মাদরাসার মো. ইসমাইল হোসেন, ছাতিয়ানী মাদরাসার নূর মোহাম্মদ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা কেউ মাদরাসার সুপার, কেউ সহকারী শিক্ষক। আবার কেউ ছুটিতে থেকেও ঘটনাস্থলে ছিলেন।

দুর্বাটি দারুচ্ছুন্নাত এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ওই এতিমখানায় বহিরাগত কারো ঢোকার অনুমতি নেই। তার পরও ওই দিন পরীক্ষা চলাকালে এত শিক্ষক কিভাবে ঢুকল, তা জানতে এতিমখানার সুপারিনটেনডেন্টের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান জানান, ওই ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হল সুপারকে অব্যাহতি দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।


মন্তব্য