kalerkantho


ভুল ইনজেকশনে মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু

বাগেরহাটে তদন্ত কমিটি গঠন

বাগেরহাট প্রতিনিধি   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাগেরহাটে ভুল ইনজেকশন পুশ করায় এক মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রবিবার বাগেরহাট জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় সিভিল সার্জন ঘটনা তদন্তে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করেন।

সদর উপজেলার বেনেগাতী গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম তরফদার (৬৫) গত বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান। অসুস্থজনিত কারণে শরীরে ইনজেকশন পুশ করার কয়েক মিনিটের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। পরদিন শুক্রবার তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে পারভীন বেগম বলেন, তাঁর বাবা কয়েক দিন ধরে অসুস্থ বোধ করছিলেন। এ অবস্থায় তিনি বাবাকে নিয়ে ফকিরহাটে একজন চিকিৎসককে দেখান। ওই চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখিয়ে তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট শহরের প্রধান সড়কের ইউনিক ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধ ও ইনজেকশন কিনে বাড়িতে নিয়ে আসেন। ইনজেকশন পুশ করার জন্য রাতে গ্রামের একজন পল্লী চিকিৎসককে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। রাত ৮টার দিকে তাঁর বাবার শরীরে ওই ইনজেকশন পুশ করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এরপর তাঁকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ সময় হাসপাতালের চিকিৎসকরা ওই চিকিৎসাপত্র ও পুশ করা ইনজেকশন দেখে জানান, ভুল ইনজেকশন পুশ করা হয়েছে। আর হাসপাতালে আনার আগেই ওই মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। এরপর তাঁরা চিকিৎসকের চিকিৎসাপত্র এবং পুশ করা ইনজেকশনের শিশি নিয়ে ওই ফার্মেসিতে যান। ইউনিক ফার্মেসির মালিক শিব কুমার দাস বলেন, ‘আমার দোকানের এক কর্মচারী ভুল করে ঝড়হধীধ-এর পরিবর্তে ঝধীঁধ সরবরাহ করেছে। অসাবধানবশত এটি ঘটেছে। ’ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. প্রদীপ কুমার বকসী বলেন, ‘ঝড়হধীধ ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে উপশমকারী। অন্যদিকে ঝধীঁধ অস্ত্রোপচারের আগে চেতনানাশক। ’

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার পরিবার অভিযোগ করতে রাজি হয়নি। ’

জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও মোল্লাহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুল আলম ছানা মুক্তিযোদ্ধা মৃত্যুর ঘটনায় সঠিক তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে আর কোনো মানুষের যাতে ভুল ওষুধ প্রয়োগের কারণে মৃত্যু না হয়. সে বিষয়ে সব মহলকে সচেতন থাকার দাবি জানান।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. অরুন চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘চার সদস্যের তদন্ত কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে বাগেরহাট সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সমীর কান্তি পালকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন ডা. প্রদীপ কুমার বকসী, জেলা পরিসংখ্যানবিদ বাসির আহমেদ ও বাগেরহাট ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক (ড্রাগ) ফারজানা স্বপ্না বৈশাখী। ’

 


মন্তব্য