kalerkantho


কুষ্টিয়ায় সরকারি গাছ কাটল সিবিএ নেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কুষ্টিয়ায় সরকারি গাছ কাটল সিবিএ নেতারা

কুষ্টিয়ায় সরকারি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড অফিসের রেস্ট হাউসের পাশের কয়েক লাখ টাকা মূল্যের গাছ কেটে নিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সিবিএ নেতারা। গত শুক্রবার দিনভর বিদ্যুৎ শ্রমিক-কর্মচারী লীগের নেতাদের এভাবে গাছ কাটায় কেউ প্রতিবাদ করতে পারেনি।

উল্টো তারা দাবি করেছে, এখানে নাকি এটাই নিয়ম। বন বিভাগ জানিয়েছে, এভাবে গাছ কাটা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার ছুটির দিনে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত প্রায় সাত লাখ টাকা দামের সাতটি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কুষ্টিয়ার ওজোপাডিকো অফিস প্রাঙ্গণে ১০ জন শ্রমিকের এমন কর্মযজ্ঞ চলার সময় পাশেই চেয়ার পেতে বসে গাছ কাটা তদারক করেন বিদ্যুৎ কর্মচারী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হকসহ কয়েকজন।

গাছ কাটার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানায়, গাছ কাটার জন্য বিদ্যুৎ কর্মচারী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক তাদের ডেকে এনেছেন। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভেতরের বড় বড় এসব গাছ কাটলেও বন বিভাগকে জানানো হয়নি। এমনকি মূল্য নির্ধারণ অথবা নিলাম প্রক্রিয়াও করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ অফিসের কর্মচারীরা জানান, এখানকার একজন কর্মকর্তার ইন্ধনে এসব গাছ কাটা হয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সঙ্গে ওই কর্মকর্তার বিশেষ সখ্য রয়েছে।

এ কারণে ভয়ে তাকে কেউ কিছু বলতে পারে না।

কুষ্টিয়া ওজোপাডিকো বিদ্যুৎ শ্রমিক-কর্মচারী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক জানান, এটাই এখানকার সিস্টেম। দীর্ঘদিন ধরে এই রেওয়াজই চলে আসছে এখানে।

তবে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি কুষ্টিয়ার (ওজোপাডিকোর) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তবিবুর রহমান গাছ কাটার কথাই অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, গাছ কাটার তথ্য সঠিক নয়। অফিস এলাকায় কোনো গাছ কাটা হয়নি।

এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আসলাম মজুমদার জানান, সরকারি অফিসের কোনো গাছ কাটতে হলে কর্তৃপক্ষকে ন্যূনতম জেলাপর্যায়ের বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কাছে আবেদন করতে হবে। বন বিভাগকে না জানিয়ে গাছ কাটা আইনসম্মত নয়, যা করা হয়েছে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এর দায়ভার ওজোপাডিকোর কর্মকর্তাদের নিতে হবে।


মন্তব্য