kalerkantho


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

দুই ইস্যুতে সিনেট সভায় ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ঢাকার সাত সরকারি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়া এবং দুদকের মামলায় তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ সিনেট সভায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে দিনব্যাপী ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপাচার্য ও সিনেট চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদের সভাপতিত্বে সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধির কিছু ধারা সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এ ছাড়া ২১ অক্টোবর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আনন্দঘন পরিবেশে রজত জয়ন্তী উদ্‌যাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় সিনেট সদস্য বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্নর সিরাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, সেশনজট দূর করে শিক্ষায় গতি আনতে গঠিত হয়েছিল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু হঠাৎ গত বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকার শীর্ষ সাতটি সরকারি কলেজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত করে। তা ছাড়া সম্প্রতি প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে দুদক। ভুল তথ্যের ভিত্তিতে এসব করা হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ওই দুটি ঘটনায় বিশ্বব্যািলয়ের সুনাম ও ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একটি প্রতিনিধিদলের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার প্রস্তাব দেন তিনি।

আরেক সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিভাগের শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, কারো প্ররোচনায় দুদক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার করেছে। তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরে সিনেটে এ দুটি বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সমাপনী বক্তব্যে ভিসি হারুন-অর-রশিদ বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সর্ববৃহৎ, এমনকি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বৃহৎ আয়তন বা পরিধির কারণে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহারে অনীহা বা অপারদর্শিতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে পেশাদারত্বের মনোভাব গড়ে না ওঠা, সরকারি কলেজগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকা, বেসরকারি কলেজের গভর্নিং বডি গঠন নিয়ে অন্তঃকলহ ও হস্তক্ষেপ ইত্যাদি অন্যতম। এসব বাস্তব অবস্থা মোকাবিলা করেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

অধিবেশনে সিনেট সদস্য আবুল কালাম আজাদ এমপি, বাবু ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এমপি, বেগম হেপী বড়াল এমপি, ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মাহবুবুর রহমান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান চৌধুরী, সব বিভাগীয় কমিশনার, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ সিনেট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দরিদ্রতা অশিক্ষাই বাল্যবিয়ের

অন্যতম কারণ : প্রতিমন্ত্রী চুমকি

মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেছেন, দেশকে বাল্যবিয়ের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে সরকার সচেষ্ট। ইতিমধ্যে বাল্যবিয়েসংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি প্রণয়ন, পরিবর্তন ও সংযোজন করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার পাশাপাশি রাজনীতিক, সুধীসমাজের প্রতিনিধি ও এনজিওকর্মীদের মধ্যে এ বিষয়ে যথেষ্ট সচেতনতা তৈরি হয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার তিরিয়া গ্রামে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এডুকো নির্মিত শিশুবান্ধব বিদ্যালয়ের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তাত্ক্ষণিকভাবে খবর পেলে আমরা বাল্যবিয়ে বন্ধ করতে পারি। কিন্তু এখানে থেমে থাকলেই চলবে না। আমাদের সমস্যার মূলে যেতে হবে। দেখতে হবে পরিবারটি কেন তার সন্তানকে বাল্যবিয়ে দিচ্ছে। দরিদ্রতা ও অশিক্ষাই বাল্যবিয়ের অন্যতম কারণ। ’ প্রতিমন্ত্রী দারিদ্র্য দূরীকরণ ও শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি এনজিওগুলোকে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মনু হিউবার্ড ডোরেসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান, এডুকোর কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. নিজাম উদ্দিন, নাগরী মিশনের ফাদার জয়ন্ত গমেজ প্রমুখ।


মন্তব্য