kalerkantho


সোনারগাঁয় ডাকাতের ভয়

হাতে লাঠি, মুখে বাঁশি রাত জেগে পাহারা

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদীপুর ইউনিয়নের দশ গ্রামের মানুষ ডাকাত আতঙ্কে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। প্রায় ১৫ দিন ধরে হাতে লাঠি ও মুখে বাঁশি নিয়ে পর্যায়ক্রমে দল বেঁধে রাতভর পাহারা দিচ্ছে এলাকাবাসী। এর প্রতিকার চেয়ে গতকাল শনিবার সোনারগাঁ থানায় একটি লিখিত আবেদনও দিয়েছে তারা।

এলাকাবাসী জানায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সাদীপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের প্রবাসী জামান ভূঁইয়ার বাড়িতে ১৫-২০ জন মুখোশধারী ডাকাত হানা দেয়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি পাশের ভারগাঁও গ্রামের আমিনুল ইসলামের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আদমপুর গ্রামের ব্যবসায়ী কবির হোসেনের বাড়িতে ডাকাতদল হানা দেয়। ডাকাতদলের উপস্থিতি টের পেয়ে ভারগাঁও, কাজীপাড়া, দরগাবাড়ি, চিনিপাড়া, মন্দিপাড়া, বাটপাড়া, খিদিরপুর, চৌরাপাড়া, নন্দিপুরসহ প্রায় ১০ গ্রামের মসজিদে মাইকিং করে লোকজন একত্র হয়ে ডাকাতদের ধাওয়া করলে ডাকাতদল পালিয়ে যায়। তারা জানায়, গত ১৫ দিনে কমপক্ষে ৯ বার হানা দিয়েছে ডাকাতদল। তাই ডাকাতদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তারা হাতে লাঠি ও মুখে বাঁশি নিয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে। তা ছাড়া এ অবস্থার স্থায়ী সমাধানের জন্য শনিবার সোনারগাঁ থানায় লিখিত আবেদন জানানো হয়েছে।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে কথা হয় কাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও সাদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ লুত্ফর রহমান শাহীনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে ডাকাতদল প্রায় প্রতি রাতেই আমাদের গ্রামে ও আশপাশের এলাকায় হানা দেয়। এলাকাবাসীর প্রচেষ্টায় ডাকাতদের এ পর্যন্ত প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। ’

চৌরাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এ আর নোমান সাউদ বলেন, ‘প্রতিবছর এলাকায় পুলিশের টহল ব্যবস্থা থাকায় আমরা শান্তিতে ঘুমাতে পেরেছি। এ বছর তা না থাকায় ডাকাতের ভয়ে আমরা ঘুমাতে পারি না। ’

কাজীপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী বজলুর রহমান বলেন, ‘২০০৯-১০ সালে ডাকাতের উপদ্রব বেশি থাকলেও এরপর কয়েক বছর আমাদের এলাকায় ডাকাতির ঘটনা কমে এসেছিল। কিন্তু ১৫ দিন ধরে ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ’

সাবেক ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া বলেন, দিনের আলো পেরিয়ে সন্ধ্যা নেমে এলেই মানুষের মধ্যে ডাকাত আতঙ্ক বাড়তে থাকে।

অনুসন্ধান চালিয়ে জানা যায়, সোনারগাঁ উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকার গ্রামগুলেতে পুলিশের তৎপরতা কম। এ সুযোগে ওই এলাকায় চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে। গত দুই মাসে সাতটি ডাকাতি, পাঁচটি চুরি ও ছয়টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। কাজীপাড়া বাজারে স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছে এলাকাবাসী। এ বিষয়ে সাদীপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ মোল্লা বলেন, ওই এলাকায় একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন ও পুলিশের টহল ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মঞ্জুর কাদের বলেন, ‘সাদীপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া ভারগাঁও ও আশপাশের এলাকায় কয়েক দিন ধরে ডাকাতির ঘটনার খবর পেয়েছি। ডাকাতদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানান, যেসব এলাকায় ডাকাতদের আনাগোনা বেশি, সেসব এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা বলেন, ‘সাদীপুর ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে ডাকাতদের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ার খবর পেয়েছি। ওই এলাকায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ’


মন্তব্য