kalerkantho


ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগে পদোন্নতির উদ্যোগ স্থগিত

না জানার ভুল, নাকি বাণিজ্যের টোপ!

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ময়মনসিংহ অঞ্চলের স্বাস্থ্য বিভাগে পদোন্নতি ও নিয়মিতকরণের সিদ্ধান্ত অবশেষে স্থগিত করা হয়েছে। ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে এমন পদোন্নতি ও নিয়মিতকরণ বিধিসম্মত হবে না, বিষয়টি জানার পরই এ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে গুঞ্জন আছে, এরই মধ্যে ওই পদোন্নতি-নিয়মিতকরণ নিয়ে ‘বাণিজ্য’ হয়ে গেছে। তাই প্রশ্ন উঠেছে, নিয়মিতকরণ ও পদোন্নতির আইনি বাধার বিষয়টি কর্তৃপক্ষ কি আদৌ জানত না, নাকি জেনেও বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে টোপ ফেলেছিল?

সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নির্দেশনামা অমান্য করে গত বছরের শেষ দিকে ময়মনসিংহ বিভাগে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে নিয়মিতকরণ ও পদোন্নতির উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ জন্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে কাগজপত্রও আহ্বান করা হয়। ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. নুর মোহাম্মদ একই দপ্তরের অফিস সহায়কদের ‘অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর’ পদে পদোন্নতির জন্য কম্পিউটার টেস্ট পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ, জামালপুর, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলার সিভিল সার্জন/তত্ত্বাবধায়ক এবং ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, জামালপুরের সহকারী পরিচালককে চিঠি দেন। এর অংশ হিসেবে গত ৩ জানুয়ারি একই দপ্তরে অফিস সহায়কদের ‘অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর’ পদে পদোন্নতির লক্ষ্যে কম্পিউটার টেস্ট পরীক্ষা হয়। এতে প্রায় ৩৮ জন অংশ নেন। এ ছাড়া স্বাস্থ্য সহকারী, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, প্রধান সহকারী, অফিস সহকারী পদে পদোন্নতির জন্য সার্ভিস বুক, এসিআর ইত্যাদিসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র আহ্বান করে কর্তৃপক্ষ। এসব পদে ১৫৮ জনকে পদোন্নতি দেওয়ার কথা।

তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের পদোন্নতি/নিয়মিতকরণের জন্য গত ৬ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালকের কক্ষে এ পদোন্নতি কমিটির এক সভা ডাকেন পরিচালক ডা. নূর মোহাম্মদ।

পাঁচ সদস্যের কমিটির সভাপতি হলেন পরিচালক (স্বাস্থ্য) ময়মনসিংহ বিভাগ। আর ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন খলিলুর রহমান সদস্যসচিব।

সূত্র জানায়, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বৈঠকের শুরুতেই কমিটির সদস্যসচিব খলিলুর রহমান এভাবে নিয়মিতকরণ বা পদোন্নতির বিষয়টি বিধিবহির্ভূত বলে জানান। তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্যও তুলে ধরেন। এরপর ওই বৈঠকেই এ উদ্যোগ স্থগিত করা হয়।

তবে একাধিক সূত্র অভিযোগ করেছে, ইতিমধ্যে যা বাণিজ্য হওয়ার হয়ে গেছে। সূত্র মতে, প্রায় ছয় মাস আগে ময়মনসিংহ বিভাগ হওয়ায় প্রথমবারের মতো পরিচালক পদে যোগ দেন বর্তমান পরিচালক ডা. নূর মোহাম্মদ। পরিচালকের অজ্ঞতাকে পুঁজি করে তাঁর দপ্তরেরই কিছু কর্মচারী এ উদ্যোগ নিতে তাঁকে উদ্বুদ্ধ করেন। ৬ ফেব্রুয়ারির বৈঠকে পরিচালক বিষয়টি বুঝতে পেরে উদ্যোগটি স্থগিত করেন।

এ ব্যাপারে পদোন্নতি কমিটির সদস্যসচিব খলিলুর রহমান বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়োগ নিয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ ধরনের পদক্ষেপ স্থগিত রেখেছে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. নুর মোহাম্মদ বলেন, তিনি বিষয়টি জানতেন না। কর্মচারীরা তাঁকে পদোন্নতির ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে বলেছিলেন। তাই তিনি উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ নিয়ে টাকা লেনদেনের অভিযোগ বা গুঞ্জন বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে টাকা নেওয়ার কোনো বিষয় নেই। নিয়মানুযায়ীই সব কিছু হবে।

আলোচিত বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগীয় কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরিদুল হক। তিনি বলেন, তিনি এ অফিসে নতুন যোগ দিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করে থাকলে তা প্রমাণ করে দেখাক।


মন্তব্য