kalerkantho


কুমিল্লার মুরাদনগরে ধর্ষিতা কিশোরী আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা

সালিসে ডিএনএ পরীক্ষার রায়!

মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নে ধর্ষিতা প্রতিবন্ধী এক কিশোরী (১৫) আট মাসের অন্তঃসত্ত্ব্বা হয়েছে। পিতৃপরিচয় জানতে গ্রাম্য সালিসে গর্ভের শিশুর ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন মাতবররা। যদিও ধর্ষণের মতো অপরাধ সালিসে নিষ্পত্তিযোগ্য নয়।

শারীরিক প্রতিবন্ধী (একটি হাত ও একটি পা অচল) মেয়েটি জানায়, গত বছর রোজার এক সন্ধ্যা রাতে সে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হয়। তার চাচাতো ভাইয়ের ছেলে কাদির তাকে তুলে পাশের একটি দোকানঘরে নিয়ে যায়। হাত-পা বেঁধে ও মুখে কাপড় দিয়ে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। এ ঘটনা প্রকাশ করলে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ কারণে সে কাউকে কিছু বলেনি। সম্প্রতি তার শারীরে পরির্বতন দেখা দেয়। তার মা তাকে হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা করান। গর্ভে সন্তান ধরা পড়ে।

এরপর বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। সে কাদিরের নাম প্রকাশ করে। এর পর থেকে কাদির ও তার পরিবার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্র বিষয়টি আপস-মীমাংসার জন্য দফায় দফায় সালিসে বসে। গত সোমবার রাতে একটি বৈঠকে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভের শিশুর পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে সিদ্ধান্ত নেন প্রভাবশালীরা। এ নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, মেয়েটি পিতৃহারা। হতদরিদ্র পরিবার। মা কাজ করে সংসার চালান। কখনো অনাহারে, কখনো অর্ধাহারে চলে তাদের জীবন। তাদের পাশে দাঁড়ানোর মতো গ্রামে কেউ নেই। অন্যদিকে সালিসকারীরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী। তাদের প্রভাব এতটা যে সালিসে উপস্থিত ছিলেন এমন কারো নাম প্রকাশ করতে সাহস পায়নি গ্রামের লোকজন। তবে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতা ওই সালিস করেছেন।

অভিযুক্ত কাদিরের মা হোসেনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে ঢাকায় কাজ করে। গত রমজানে ঢাকা থেকে সে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে আমি আর কিছু জানি না। ’

এলাকাবাসীর দাবি, এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অনাগত সন্তানটির ভবিষ্যৎ চিন্তা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কর্তৃপক্ষ। নবীপুর পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী আবুল খায়ের বলেন, ‘ঘটনা জানি না। খোঁজ নিয়ে জানব। ’

মুরাদনগর উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা পারভিন আক্তার বলেন, ‘আমি অবহিত নই। বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

মুরাদনগর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান বলেন, ‘আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। খোঁজ নেব। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। ’

ধর্ষণ ও এর ছবি তোলা মামলায় দুজন গ্রেপ্তার

এদিকে মুরাদনগরের ধামঘর ইউনিয়নে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রীকে (১১) ধর্ষণ ও এর ছবি তোলা মামলায় গত শুক্রবার রাতে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলো লক্ষ্মীপুর গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে ইব্রাহীম খলিল (২২) ও সহযোগী শহীদ মিয়ার ছেলে মনির (২২)।

থানা সূত্রে জানা যায়, ইব্রাহীম কৌশলে মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। দুজন মুরাদনগর শিল্প ও বাণিজ্য মেলায় ঘুরতে আসে। সেখানে ইব্রাহীম তার মোবাইল ফোনে বিভিন্নভাবে দুজনের ছবি তোলে। পরে সেই ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করার হুমকি দেয়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি মেয়েটির বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখিয়ে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। এ সময় আরো কিছু ছবি তোলে। দুই দিন পর শিপন ছবিগুলো দেখিয়ে মেয়ের মাকে বলে, ‘টাকা না দিলে ছবি ইন্টারনেটে প্রকাশ করব। ’ বিষয়টি মুরাদনগর থানাকে জানালে পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে।

মেয়ের মা বলেন, ‘আমার মেয়ের সঙ্গে যারা এসব নোংরামি করেছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। ’ মুরাদনগর থানার ওসি এস এম বদিউজ্জামান বলেন, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা হয়েছে। মোবাইল ফোনটিও জব্দ করা হয়েছে। ’


মন্তব্য