kalerkantho


ফরিদপুরে শ্রমিক খুন

তিন স্থানে আরো দুই হত্যা, এক লাশ

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ফরিদপুরে বস্তিতে ছোট ভায়রার হাতে ডেকোরেটর শ্রমিক খুন হয়েছেন। ঘাতককে আটক করে থানায় নেওয়া হলে গেটের সামনে থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে বস্তির লোকজন। হবিগঞ্জের মাধবপুরে শ্বশুরকে কুপিয়ে মেরেছে জামাতা। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বৃদ্ধাকে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। কসবায় কবিরাজের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ফরিদপুর : ছোট ভায়রার রডের আঘাতে খুন হয়েছেন বড় ভায়রা আজাদ শেখ। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার সকালে শহরের ২ নম্বর হাবেলি গোপালপুর এলাকার ডক বস্তিতে। পরে শহরতলির শিবরামপুর এলাকা থেকে ঘাতক বাচ্চু খানকে আটক করে পুলিশ। দুপুর পৌনে ২টার দিকে বাচ্চুকে কোতোয়ালি থানায় ঢোকানোর সময় গেটে বস্তিটির দেড় শতাধিক লোক তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশসহ চারজন আহত হয়।

তারা ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। থানার ওসি মো. নাজিমউদ্দিন আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। আজাদ ও বাচ্চু দুজনেই শহরের রেলস্টেশন সড়কের ‘লাকি ডেকোরেটর’ এ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

কিশোরগঞ্জ : কটিয়াদী উপজেলায় বৃদ্ধা রেহেনা আক্তারের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার হাসারকান্দা গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুপুরে তাঁর ছেলে ফিরোজ মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রেহেনা কালু মিয়ার (মৃত) স্ত্রী ছিলেন। স্থানীয়রা জানায়, গত শুক্রবার রাতে খাওয়া-দাওয়া করে নিজের ঘরে ঘুমিয়েছিলেন রেহেনা। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও ঘরের দরজা বন্ধ দেখে এলাকার কয়েকজন উঁকি দিয়ে ভেতরে গলাকাটা লাশ পড়ে থাকতে দেখে। কটিয়াদী মডেল থানার ওসি আহসান উল্লাহ জানান, পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে বৃদ্ধাকে জবাই করা হয়েছে। তাঁর ছেলেকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : কসবা উপজেলায় কবিরাজ ফরিদ মিয়ার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার সকালে উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় বিকেল পর্যন্ত কোনো মামলা বা কেউ আটক হয়নি। পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, কবিরাজি করায় তাঁর বাড়িতে বিভিন্ন ধরনের লোকজনের যাওয়া-আসা ছিল। জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে গত শুক্রবার রাতের কোনো এক সময় তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। ঘটনার সময় তাঁর পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিল না। কসবা থানার ওসি মো. মহিউদ্দিন জানান, এ বিষয়ে কবিরাজের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। সদর হাসপাতাল মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ : মাধবপুর উপজেলায় শ্বশুর কামাল মিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করেছে জামাতা সাজু মিয়া। এ সময় বাধা দিতে গেলে স্ত্রী নুরজাহান, শাশুড়ি সাহেরা খাতুন, শ্যালিকা নেকজাহান ও শালা (কামালের ভাগ্নে) স্বপন মিয়াকেও কোপায় সে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শুক্রবার রাতে উপজেলার রতনপুর গ্রামে। ঘাতক সাজু পলাতক রয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, তিন বছর আগে শায়েস্তাগঞ্জ থানার সুরাবই গ্রামের মস্তু মিয়ার ছেলে সাজু মিয়ার সঙ্গে রতনপুর গ্রামের কামাল মিয়ার মেয়ে নুরজাহানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। একপর্যায়ে তারা আলাদা থাকতে শুরু করে। পরে দুই পরিবারের চেষ্টায় তারা আবার এক হয়। কিন্তু কলহের জেরে রতনপুরে ফের বাবার বাড়িতে চলে আসেন নুরজাহান। শুক্রবার রাতে সহযোগীদের নিয়ে সাজু তার শ্বশুরবাড়িতে আসে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে শ্বশুরকে কোপাতে থাকে সে। এ সময় বাধা দিতে গেলে স্ত্রীসহ চারজনকে কোপায় সে।


মন্তব্য