kalerkantho


গরিবরা বাদ,কাজ বন্ধ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



যশোরের কেশবপুরে গত বছরের তালিকায় থাকা প্রায় এক হাজার ২০০ হতদরিদ্র ব্যক্তির নাম ৪০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় থাকা প্রকল্পের তালিকা থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন থেকে বাদ পড়া এমন ১২০ জন কাজ ফিরে পেতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছে। এ অবস্থায় এ ইউনিয়নে ওই প্রকল্পের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, সমাজের অসচ্ছল পরিবারে সচ্ছলতা আনতে দেশব্যাপী ‘অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান’ প্রকল্প নামে ৪০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচির প্রকল্প নেওয়া হয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ কর্মসূচির আওতায় প্রথম পর্যায়ে উপকারভোগীর নাম, প্রকল্পের নাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি, নন-ওয়েজ কস্ট প্রকল্পের নামসহ তালিকা দাখিলের জন্য গত ৫ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত একটি চিঠি কেশবপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসে পাঠানো হয়। সে অনুযায়ী ত্রিমোহনী ইউনিয়নে ১৫০, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে ৩০০, মজিদপুর ইউনিয়নে ২৪৩, বিদ্যানন্দকাটি ইউনিয়নে ১৫৯, মঙ্গলকোট ইউনিয়নে ২৩২, কেশবপুর (সদর) ইউনিয়নে ২১৫, পাজিয়া ইউনিয়নে ২৬৬, সুফলাকাটি ইউনিয়নে ২১৬, গৌরীঘোনা ইউনিয়নে ২৩৯, সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে ১৯৫ ও হাসানপুর ইউনিয়নে ১৭৯ জনসহ এ উপজেলায় দুই হাজার ৩৯৪ জন উপকারভোগীর নাম তালিকাভুক্তির নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পদাধিকার বলে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা এ কর্মসূচির তালিকা প্রস্তুত করেন। কিন্তু তালিকা প্রস্তুতের সময় চেয়ারম্যান, মেম্বারদের অনেকের মধ্যে ভোটের রাজনীতির শিকার হয়ে গত বছরের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির প্রায় এক হাজার ২০০ ব্যক্তিকে এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। অথচ এ কর্মসূচির ২ নম্বর শর্তে উল্লেখ হয়েছে, পূর্ববর্তী বছরের উপকারভোগীর নাম পরবর্তী বছরে পরিবর্তন করা যাবে না। তবে কোনো উপকারভোগীর মৃত্যু হলে বা কাজ করতে অক্ষম হলে তার পরিবর্তে স্বামী, স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, পিতা ও মাতাকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। কিন্তু চেয়ারম্যান-মেম্বাররা এ শর্ত ভঙ্গ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন থেকে ১২০ জন বাদ পড়া ব্যক্তি কাজ ফিরে পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। একই ভাবে অন্যান্য ইউনিয়ন থেকেও আবেদন জমা পড়েছে। সাগরদাঁড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত জানান, যাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা অপেক্ষাকৃত সচ্ছল, অক্ষম ও অনেকেই কাজ করতে আসে না। এমন কিছু লোক বাদ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা সহকারী প্রকল্প কর্মকর্তা জয়ন্ত ঠাকুর বলেন, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন থেকে কাজ ফিরে পাওয়া আবেদনকারীদের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। অন্যান্য ইউনিয়ন থেকে কিছু আবেদন পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিজিবুল ইসলাম জানান, সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন থেকে বাদ পড়া ব্যক্তিরা কাজ ফিরে পাওয়ার আবেদন করায় ওই ইউনিয়নে বর্তমান কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইউএনও শরীফ রায়হান কবীর বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে ফের কাজ শুরু হবে।


মন্তব্য