kalerkantho


কর্মসংস্থান প্রকল্পে অপকর্ম

ধনীর যন্ত্র খাচ্ছে গরিবের টাকা

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কর্মসংস্থান প্রকল্পে অপকর্ম

কুমিল্লার তিতাসে ‘হতদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান’ কর্মসূচিতে গরিব শ্রমিকদের কাজে না লাগিয়ে ভেকু দিয়ে চলছে প্রকল্পের কাজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

কুমিল্লার তিতাসে হতদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে ভেকু (মাটি কাটার যন্ত্র) ব্যবহার করা হচ্ছে। নিয়মানুযায়ী শ্রমিক ব্যবহার করার কথা। কিন্তু তা মানা হচ্ছে না। মাটি ভেকু কাটলেও ব্যাংক থেকে টাকা তোলা হচ্ছে ভুয়া শ্রমিকের নামে। এ নিয়ে দরিদ্রদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের প্রথম পর্যায়ে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে অতিদরিদ্রের জন্য কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ৩৪টি প্রকল্পের জন্য ১৩৪৬ শ্রমিকের বিপরীতে দৈনিক ২০০ টাকা হারে এক কোটি সাত লাখ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি থেকে ৪০ দিনের প্রকল্প শুরু হয়। গতকাল শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, নীতিমালায় স্থানীয় ১৮-৬০ বছর বয়সী কর্মক্ষম অতিদরিদ্রদের সম্পৃক্ত করার কথা বলা হলেও বেশির ভাগ প্রকল্পে এর লেশমাত্র নেই। উপজেলার জগত্পুর ইউনিয়নের ‘কেশবপুর এলজিইডি সড়কের ফিরোজ মিয়ার বাড়ি হতে সাগরফেনা হাকিমের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ’ প্রকল্পে প্রতিদিন ১২৫ শ্রমিকের বিপরীতে ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। মজিদপুর ইউনিয়নের ‘শাহপুর এলজিইডি রাস্তার করিমখালী সেতু হতে মান্নান মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণ’ প্রকল্পে প্রতিদিন ১০৮ শ্রমিকের বিপরীতে আট লাখ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। কড়িকান্দি ইউনিয়নের ‘বন্দরামপুর হারুন অর রশিদের বাড়ি হতে ইউসুফপুর কেয়ার বাড়ি পর্যন্ত নতুন রাস্তা নির্মাণ’ প্রকল্পে ৫৫ জন শ্রমিকের বিপরীতে চার লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

প্রতিটি প্রকল্পে ভেকু দিয়ে চলছে কাজ।

প্রতিটি প্রকল্পে শ্রমিক সংখ্যা উল্লেখ থাকলেও সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি তালিকা ও শ্রমিকের। নীতিমালায় সি ও ডি ক্যাটাগরিতে উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রকল্প নেওয়ার কথা রয়েছে। এ নীতিমালা লঙ্ঘন করে একাধিক ইউনিয়নে বেশি প্রকল্প দেওয়া হয়েছে। ভেকু দিয়ে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়িত হলেও কিভাবে শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবের টাকা উত্তোলন করা হবে তা নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙুলি দেখিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি, ট্যাগ কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে এটা চলছে। অথচ প্রতিটি প্রকল্পের বিপরীতে নির্দিষ্ট শ্রমিকসহ বাস্তবায়ন কমিটির তালিকা, শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাব নম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। অফিস থেকে প্রত্যেক শ্রমিকের অনুকূলে কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।

মজিদপুর ইউনিয়নের শ্রমিক আজিজ মিয়া বলেন, ‘গত বছর আমরা নিরীহ শ্রমিকরা কাজ করে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেছি। এ বছর আমাদের নামে ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খুলে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে টাকা তুলছেন চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। ’

উপজেলা পিআইও মো. নোমান বলেন, ‘নীতিমালা অনুসরণ করে ৪০ দিনের কর্মসূচির কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটু সমস্যা রয়েছে তা অস্বীকার করা যাবে না। ভেকু দিয়ে মাটি কাটলে বেশি কাজ করা যায়। ’

তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মকিমা বেগম বলেন, ‘নীতিমালার বাইরে কাজ হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য