kalerkantho


খানজাহান আলী বিমানবন্দর

জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে আছে প্রকল্প

গৌরাঙ্গ নন্দী, খুলনা   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



উদ্যোগ নেওয়ার ৫৪ বছর পর ২০১৫ সালের ৪ মে খুলনায় বিমানবন্দর নির্মাণসংক্রান্ত প্রকল্পটি একনেকে (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫৪৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

খানজাহান আলী বিমানবন্দর নির্মাণ প্রকল্প নামের এই বিমানবন্দর নির্মাণকাজ ২০১৮ সালের জুন মাস নাগাদ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ শুরু দূরের কথা, প্রকল্পটি এখনো জমি অধিগ্রহণ পর্বে আটকে আছে।

জমি অধিগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাগেরহাট জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস কালের কণ্ঠকে বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য আগে যে পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। প্রকল্প অনুযায়ী আরো ৫৩৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হলেই বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য (রামপাল-মংলা) এবং সাবেক ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী, খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ‘অধিগ্রহণের জন্য জমি নির্বাচনের পর জমির মালিকদের অনেকেই লাভের আশায় স্থাপনা গড়ে তুলেছেন; তাঁরা সে অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় জমি অধিগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছেন। সমস্যাটি হচ্ছে, জরিপের সময় জমির প্রকৃতি ও স্থাপনার ধরন দেখেই ক্ষতিপূরণের টাকা নির্দিষ্ট ও বরাদ্দ হয়। পরে তা পরিবর্তন করা খুবই জটিল।

আমরা এখন সেই জটিলতায় আছি। ’ তবে তিনি এই সমস্যা দ্রুত সমাধান হবে আশা করেন।

এখন থেকে ২১ বছর আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলাধীন ফয়লায় খুলনা-মংলা সড়কের পাশে বন্দর নির্মাণ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। খানজাহান আলী বিমানবন্দর নামে এটি একটি ‘শর্ট টেক অফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং বন্দর’ হিসেবে চালু করার জন্য ৪১ দশমিক ৩০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নের পর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ২০১১ সালের ৫ মার্চ খুলনা জেলা সফরকালে খানজাহান আলী বিমানবন্দরটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রতিশ্রুতির চার বছর পর বিমানবন্দর প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের জন্য ৫৩৬ একর জমি অধিগ্রহণের লক্ষ্যে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জমির মূল্য ৩১৮ কোটি টাকার মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সম্প্রতি এই বিমানবন্দরটি পিপিপির ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হবে বলে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। পিপিপির অধীনের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট ফি বা চার্জ পাবে।

মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এ প্রসঙ্গে বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। আগেরবার আওয়ামী লীগের সরকার প্রস্তাবিত বিমানবন্দর এলাকার মাটি ভরাটের কাজ করেছিল; কিন্তু বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকার সেই কার্যক্রম এগিয়ে নেয়নি, কাজটি বন্ধ করে দিয়েছিল।

এ অঞ্চলে বিমানবন্দর মানুষের দীর্ঘদিনের একটি দাবি। মংলা বন্দর, ইপিজেড, চিংড়িশিল্প ও রামপাল বিদ্যুেকন্দ্র ঘিরে খুলনা, বাগেরহাটসহ দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে দ্রুত যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে।


মন্তব্য