kalerkantho


উত্তরাঞ্চলে নদী খননে বরাদ্দ নেই ১০ বছর

দুই শতাধিক নৌপথ বন্ধ!

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



উত্তরাঞ্চলে গত ১০ বছর ধরে নদ-নদী খননের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয় না। খনন না করায় এ অঞ্চলের ৩০টিরও বেশি নদীতে জেগে উঠেছে ছোট-বড় অসংখ্য চর। কোনো কোনো নদী একেবারে পানিশূন্য হয়ে পড়ায় সেগুলো এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে এসব নদীর দুই শতাধিক নৌপথ। এখন হাতেগোনা ২৫টি নৌপথ চালু আছে।

নৌপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক ঘাট যেমন পরিত্যক্ত হয়ে গেছে তেমনি নৌযানের সংখ্যাও অর্ধেকের বেশি কমে গেছে। যেসব নৌঘাট এখনো টিকে রয়েছে সেগুলোর অবস্থাও বর্তমানে বেহাল।

চর জেগে ওঠায় বেশ কয়েকটি নৌপথ চলাচল করতে হয় ঘুরপথে। এতে সময় ব্যয় হচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি।

জানা গেছে, গত ডিসেম্বর থেকে ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, তিস্তা, করতোয়া ও যমুনাসহ বড়-ছোট সব নদীর পানি দ্রুত কমতে শুরু করে। এসব নদীর পানিপ্রবাহ এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে।

বিশাল চর জেগে উঠেছে নদীর বুকে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সদর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্রের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে বসবাসকারী হাজার হাজার মানুষ নদীতে নাব্যতা থাকার সময় স্বাভাবিকভাবে নৌকায় চলাচল করত। এখন নদীর বুকে চর জেগে ওঠায় শীর্ণকায় নদীর খাতগুলো হেঁটে পার হচ্ছে মানুষ। অনেক চরে ভুট্টা, বাদাম, মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়েছে।

ব্রহ্মপুত্রের সবচেয়ে বড় ঘাট হচ্ছে বালাসী ঘাট। খনন না করায় ঘাটটির পন্টুন এখন শুকনো মাটিতে পড়ে আছে। কোনো রকমে সচল আছে কুড়িগ্রামের রাজিবপুর ও কর্তীমারী, গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লার চর, কুন্দেরপাড়া ও পারদিয়ারা, ফুলছড়ির সানন্দবাড়ী, ফুটানী বাজার, জিগাবাড়ী, হরিচণ্ডি, খোলাবাড়ী, খাটিয়ামারী ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদ, ঘুটাইল ও দেওয়ানগঞ্জ নৌপথ।

ফুলছড়ি উপজেলা সদর থেকে আগে উপজেলার গলনা, ফজলুপুর, খাটিয়ামারী, পিপুলিয়া, গাবগাছি, দেলুয়াবাড়ী, জিগাবাড়ী, ভাজনডাঙ্গা, জিয়াডাঙ্গাসহ ২০টি ছাড়াও জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বাহাদুরাবাদ নৌপথে নৌকা চলত। এখন সেখানে দুই-একটি চলাচল করতে দেখা যায়। গাইবান্ধার সাঘাটা থানা সদরের মীরগঞ্জ ঘাটও প্রায় পরিত্যক্ত।

একই জেলার সুন্দরগঞ্জের গোয়ালঘাট, তারাপুর, বেলকা ও হরিপুর ঘাটের মধ্যে একমাত্র হরিপুর ঘাটটি থেকে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও কুড়িগ্রামের চিলমারী নৌপথে মাত্র দুটি নৌকা চলাচল করছে। এ উপজেলা থেকে ১৫টি নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী খনন করার জন্য সরকারের কমপক্ষে ১০ বছর ধরে কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই।


মন্তব্য