kalerkantho


মাগুরায় আটজনকে গণপিটুনি

ডাকাতি করে পালানোর পথে ট্রাক খাদে

মাগুরা প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ডাকাতি করে পালানোর সময় ট্রাক নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে খাদে পড়ে যায়। গ্রামবাসী সন্দেহভাজন আটজনকে ধরে গণপিটুনির পর পুলিশের হাতে তুলে দেয়। মাগুরা সদর উপজেলার লক্ষ্মীকোল গ্রামে গতকাল শুক্রবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।

মাগুরা সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রিপন আহমেদ জানান, ভোর ৪টার দিকে একদল লোক লক্ষ্মীকোল গ্রামের রবিউল ইসলাম রাখুর বাড়িতে ঢোকে। তারা প্রথমে ধারালো অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে। পরে তাঁদের বাড়ির কিছু মূল্যবান মালামাল ও গোয়াল থেকে দুটি গরু ট্রাকে ওঠায়। বাড়ির লোকজন বাধা দিতে গেলে ডাকাতরা পরিবারের তিনজনকে কুপিয়ে জখম করে এবং বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে আক্রান্ত পরিবারের সদস্যরা চিত্কার করলে ডাকাতদল ট্রাকযোগে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। তাদের বহনকারী ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। গ্রামবাসী আটজনকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। সদর থানা পুলিশ ডাকাতের হামলায় আহত তিন গ্রামবাসী ও ডাকাতদের মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

সন্দেহভাজন ডাকাতরা হচ্ছে ফরিদপুরের মোল্লাডাঙ্গা গ্রামের সবুজ, গোপালিয়া গ্রামের আবু হাসান, রসুলপুর গ্রামের রেজাউল, বোয়ালমারীর কামাল, ছনগাছার দিদার, মুন্না, পাবনার বাঘাবাড়ী গ্রামের জালাল ও জামালপুরের বড়মাথা গ্রামের আব্দুল লতিফ। এরা আন্তজেলা ডাকাতদলের সদস্য।

অন্যদিকে ডাকাতের হামলায় আহত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি তিনজন হচ্ছেন লক্ষ্মীকোল গ্রামের রবিউল ইসলাম রাখু, মিজানুর রহমান ও মো. কুতুব উদ্দিন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে।

লক্ষ্মীকোল গ্রামের কৃষক আবু আইয়ুব ও মিজান বিশ্বাস জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় ডাকাতদের উপদ্রব লক্ষ করা যাচ্ছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তারা ট্রাক নিয়ে এসে কৃষকের গোয়ালের গরু ও মাঠে থাকা সেচযন্ত্র খুলে নিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির লোকজন ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় এ কাজটি করে তারা। পরে যা চুরি হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং আইনগতভাবে ক্ষতিগ্রস্তরা খুব একটা প্রতিকার পায় না। কারণ আসামিরা অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে থেকে যায়। ট্রাক খাদে পড়ায় এ ঘটনাটি হাতেনাতে ধরা পড়ল। আসলে এরা চোর নয়, ডাকাত।

এ বিষয়ে মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘আটজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সদর থানায় ডাকাতি মামলা হয়েছে। এলাকায় চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে পুলিশি টহল জোরদার করা হবে। ’


মন্তব্য