kalerkantho


‘ছুটির ঘণ্টা’ থেকে রক্ষা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



‘ছুটির ঘণ্টা’ থেকে রক্ষা

নিলয় দাস

ঘটনা অনেকটা ‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমার মতোই। তবে ওই সিনেমার শিশুটির করুণ পরিণতি হলেও স্কুল ছুটির সাত ঘণ্টা পর প্রায় মধ্যরাতে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র নিলয় দাসকে। গত বুধবার সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ফতেপুরে এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের সুনীতা দাস জানান, নাতি নিলয় দাস ও নীলু দাস ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। তারা দুজন পঞ্চম ও প্রথম শ্রেণির ছাত্র। দুই ভাই প্রতিদিন একসঙ্গে স্কুলে যায়। গত বুধবার বিকেল ৪টার দিকে ছোট ভাই নীলু

স্কুল শেষে বাড়ি ফিরলেও স্কুল শেষ হওয়ার আগেই বাথরুমে গিয়ে আটকা পড়ে নিলয়। কিছুক্ষণের মধ্যে স্কুলের দরজা-জানালা বন্ধ করে সবাই বাড়ি চলে যায়। সন্ধ্যা হয়ে এলেও সে বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা তাকে বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে থাকে। কোথাও না পেয়ে পাশের গ্রাম নৌবাসপুরের

রুহুল কুদ্দুস কবিরাজের কাছে ছুটে যায়। কবিরাজ জানায়, নিলয়কে ছেলেধরারা নিয়ে গেছে।

এ খবর শুনে মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা তাদের।

নিলয়ের কাকা নিমাই দাস জানান, আট বছর আগে তাঁর বউদি নীলিমা দাস আত্মহত্যা করেন। তখন নিলয়ের বয়স দেড় বছর। পরে সাথী দাসকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন তাঁর ভাই অরবিন্দ। সাথীর সন্তান নীলু। অরবিন্দ বর্তমানে বালিয়াডাঙা বাজারে লন্ড্রির কাজ করেন। নিলয় ও নীলু এক স্কুলে পড়াশোনা করে। গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিষ্ণুপুর হাই স্কুলে যাত্রাপালার রিহার্সাল শেষে বাড়ি ফেরেন তিনি। তখন ভাইপো নিলয়ের স্কুল থেকে না ফেরার কথা শুনে তাকে খুঁজতে বের হন। তখনো বড় ভাই অরবিন্দ বাড়ি ফেরেননি। এর আগে নিলয়কে তার মাসহ স্থানীয়রা খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানিও নিলয়ের সন্ধান দিতে পারেননি।

নিমাই দাস আরো জানান, বাড়ি থেকে বের হয়ে নিলয় বলে ডাকতে ডাকতে স্কুলের দিকে এগোতে থাকেন তিনি। পথে দেখা হয় ফতেপুর হাই স্কুলের নৈশপ্রহরী বিশ্বজিৎ সরকারের সঙ্গে। তাঁর কাছেও কোনো উত্তর না পেয়ে তিনি ‘নিলয় নিলয়’ বলে প্রাইমারি স্কুলের সামনে গিয়ে চিত্কার করতে থাকেন। একপর্যায়ে নিলয় বাথরুম থেকে ওই ডাকে সাড়া দেয়। পরে পাশের একটি মোড় থেকে দপ্তরি আবদুল হাইকে ডেকে এনে তালা খুলে বাথরুম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। নিলয় জানায়, এর মধ্যে বহুবারই দরজা খুলে দিতে চিত্কার করেছে সে। একপর্যায়ে ঠাকুরমা সুনীতা দাসের কাছে শোনা ‘ছুটির ঘণ্টা’ সিনেমার কথা মনে পড়ে তার। সন্ধ্যার পর ভয় তাকে ভীষণ পেয়ে বসে।

এ ব্যাপারে ফতেপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম রব্বানি জানান, দপ্তরির অসতর্কতার কারণে অল্পের জন্য জীবনে বেঁচে গেছে নিলয়। বিষয়টি সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে।

কালীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ফারুক হোসেন জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। শুক্রবার সকালে তিনি নিলয় দাসের বাড়ি গিয়ে তার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তারা কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করেনি। এর পরও বিষয়টি আগামী উপজেলা সমন্বয় সভায় তুলে ধরা হবে।


মন্তব্য