kalerkantho


রাজবাড়ীতে মিলল দুই গৃহবধূ ও যুবকের লাশ

ভেড়ামারায় বৃদ্ধের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ইয়াসিন আলীর (৬৬) মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর গতকাল শুক্রবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর বাড়ি উপজেলার মাধবপুর গ্রামে।

পুলিশ ও ইয়াসিন আলীর পরিবার জানায়, গত ৬ জানুয়ারি রাতে উপজেলার আড়কান্দি বাজারে রাজ্জাক গং ইয়াসিন আলীকে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসা শেষে তিন-চার দিন আগে বাড়ি ফেরেন তিনি।

ভেড়ামারা থানার ওসি নুর হোসেন খন্দকার জানান, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলার বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে রাজবাড়ী ও পাংশা থানার পুলিশ গতকাল দুপুরে দুজন গৃহবধূ ও এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে। লাশগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওই তিনজন হলেন পাংশা উপজেলার মালঞ্চী গ্রামের নয়ন মণ্ডলের স্ত্রী হামিদা (১৪), জেলা সদরের গোবিন্দপুর গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের স্ত্রী তানিয়া বেগম (৩০) ও জেলা শহরের হরিজনপল্লীর সুধীরের ছেলে বিপুল (১৮)।

মালঞ্চী গ্রামের আকবর শিকদারের মেয়ে হামিদাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা জানায়, নয়ন মণ্ডল ও হামিদা প্রেম করে ৪০ দিন আগে বিবাহ করে। গত বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে ছিল। মধ্যরাতে হামিদা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে তার পরিবারকে জানানো হয়। পরে হামিদার পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে পাংশা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হামিদার দশম শ্রেণিপড়ুয়া স্বামী নয়ন জানায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে হামিদা অসুস্থ হয়। পরে নয়ন স্থানীয় চিকিৎসকের কাছ থেকে ওষুধ এনে খাওয়ায়। এর পরই হামিদার অসুস্থতা বেড়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তবে হামিদার বাবা আকবর শিকদারের দাবি, তাঁর মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে ওষুধ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।

পাংশা থানার ওসি মোফাজ্জেল হোসেন জানান, লাশের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা যাবে কিভাবে মৃত্যু হয়েছে হামিদার।

রাজবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল বাশার মিয়া জানান, রাজবাড়ী হাসপাতালে গলায় ফাঁস লাগানোর চিহ্নসহ নিয়ে আসা গোবিন্দপুর গ্রামের গৃহবধূ তানিয়া বেগমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। একই হাসপাতাল থেকে একইভাবে বিপুলের লাশ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা যাবে তাঁরা আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাঁদের হত্যা করা হয়েছে।


মন্তব্য