kalerkantho


গাজীপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক চার লেন প্রকল্প

১২ মাসে গ্যাসলাইন ২৬ বার কাটা

ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



গাজীপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দুই পাশে রয়েছে তিতাস গ্যাসের উচ্চচাপসম্পন্ন পাঁচটি বিতরণ লাইন। এসব লাইন না সরিয়ে জোরেশোরে চলছে জয়দেবপুর-চন্দ্রা-এলেঙ্গা সড়ক চার লেন প্রকল্পের কাজ।

লাইন না সরানোয় কাজ শুরুর পর গত ১২ মাসে লাইন কাটা পড়েছে ২৬ বার। যেকোনো সময় ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গাজীপুরের ভোগড়া থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত ৬৯.৮ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হয়। কিন্তু সড়কের দুই পাশের গ্যাসলাইন না সরিয়ে কাজ শুরু করায় ভারী যন্ত্রপাতির আঘাতে লাইন ফেটে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে। যখন তখন সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে গাজীপুরের শিল্প-কারখানা, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকরা ভোগান্তিতে পড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে উৎপাদন ও অর্থনীতিতে।

আরো জানা গেছে, প্রকল্পে ইউটিলিটি অপসারণ খাতে ১৭৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ছিল। তার মধ্যে লাইন অপসারণের জন্য ১৪ কোটি ৪১ লাখ টাকা ঢাকা, টাঙ্গাইল ও গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে দেওয়া হয়েছে। বাকি টাকা থেকে গেলেও তিতাস গ্যাসকে দেওয়া হয়নি।

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়কের দুই পাশে তিতাস গ্যাসের পাঁচটি উচ্চচাপসম্পন্ন লাইন রয়েছে। এসব লাইন দিয়ে ঢাকা মহানগর, সাভারের আমিন বাজার, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহের ভালুকা ও গাজীপুর সদর, কালিয়াকৈর এবং গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুরের লাখ লাখ আবাসিক, ২৫টি বাণিজ্যিক, ৭০০ সাধারণ

শিল্প-কারখানা, ৯০০টি ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ২৪টি সিএনজি

স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

এর মধ্যে কাশিমপুরের চারটি কারাগার, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) এবং

আনসার ও ভিডিপি একাডেমির

মতো কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে।

প্রকল্প চূড়ান্ত করার আগে আন্ত মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গ্যাসলাইন স্থানান্তর বা পুনঃস্থাপনের সাম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ জানতে চেয়ে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেন প্রকল্প পরিচালক। জরিপ শেষে তিতাসের পক্ষ থেকে ৫৭৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকার চাহিদা দেওয়া হয়। কিন্তু গত ২৪ আগস্ট প্রকল্প পরিচালক চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়, ইউটিলিটি অপসারণ খাতে সামান্য অর্থের সংস্থান আছে। ওই অর্থেও বেশ কিছু এরই মধ্যে ব্যয় হয়ে গেছে। গ্যাস পাইপলাইন অপসারণের জন্য আলাদা কোনো অর্থ নেই। লাইনগুলো সড়ক ও জনপথের জমিতে অবস্থিত। তাই লাইন সরানোর টাকা তিতাস গ্যাসকেই বহন করা যুক্তিসংগত। টাকা না থাকায় তিতাস কর্তৃপক্ষ লাইন সরায়নি। এ কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে।

তিতাস গ্যাসের সিস্টেম অপারেশন বিভাগের গাজীপুর অফিসের সহকারী প্রকৌশলী আখেরউজ্জামান জানান, সম্প্রসারণের ফলে গ্যাসলাইনগুলো সড়কের মধ্যে ও গভীরে থেকে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনো লিকেজ বা দুর্ঘটনা ঘটলে আবার সড়ক কাটতে হবে। নচেৎ নতুন করে লাইন বসাতে হবে। তা ছাড়া ঢাকা, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ জেলায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে কল-কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আরো জানান, তিতাস লাইন না সরিয়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেন প্রকল্পের কাজ করার ফলে ২০১৪ সালের ১৭ এপ্রিল লাইন ফেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। আগুনে তিনজন নিহত এবং অনেকে আহত হয়েছিল। পুড়ে গিয়েছিল মসজিদ, মার্কেটসহ বাড়িঘর।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মীর মশিউর রহমান জানান, সড়কের দুই পাশে তাঁদের পাঁচটি গ্যাস পাইপলাইন রয়েছে। এগুলোর মধ্যে তিনটি উচ্চচাপের গ্রিড লাইন। যথোপযুক্ত টাকা দিয়ে তারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমিতে পাইপ বসিয়েছেন। কিন্তু সড়ক সম্প্রসারণকাজ চলাকালে প্রায়ই লাইন কাটা পড়ে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। এ কারণে রাজস্বও কম আদায় হচ্ছে। আবার নিজ খরচে লাইন মেরামত করতে গিয়ে তাঁদের প্রচুর লোকসান গুনতে হচ্ছে।

জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়ক প্রকল্পের পরিচালক দিলীপ কুমার গুহ জানান, এ সড়কের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত। তা ছাড়া সড়কটি আন্তর্দেশীয় উপ-আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগের অংশ। সড়কের পাশের লাইন অপসারণের জন্য ২০১৩ সাল থেকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। তারা বিষয়টি আমলে নেয়নি। তা ছাড়া তিতাস গ্যাস পাইপলাইন অপসারণের জন্য যে পরিমাণ টাকা চেয়েছে, তা অনেক বেশি। প্রকল্পে এ খাতে কোনো বরাদ্দ নেই।


মন্তব্য