kalerkantho


নান্দাইলে প্রাইভেট না পড়ায় ছাত্রকে ১৮ ঘা

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নান্দাইলে প্রাইভেট না পড়ায় ছাত্রকে ১৮ ঘা

বেত্রাঘাতে ক্ষতবিক্ষত ছাত্র

ময়মনসিংহের নান্দাইল রোড উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্র প্রাইভেট না পড়ায় তার পিঠে বেতের ১৮ ঘা মেরেছেন তাঁর শিক্ষক। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ছেলেটিকে নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে ছাত্রদের মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন করা যাবে না।

ওই ছাত্র (নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না) জানায়, সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় সে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওমর ফারুকের কাছে প্রাইভেট পড়ত। অষ্টম শ্রেণিতে ওঠার পর ফারুক তাকে প্রাইভেট পড়তে বলেন। সে রাজি হয়নি। সে প্রাইভেট পড়তে শুরু করে বিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত নন এমন এক শিক্ষকের কাছে। এতে ফারুক তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। সে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকত। কিন্তু ফারুক তাকে খাতায় উপস্থিত দেখাতেন না। ফলে তার ছাত্রত্ব নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছিল।

গতকাল মধ্যাহ্নে শ্রেণিকক্ষে নাম ডাকার সময় শাহীন নিজের উপস্থিতি জানায়। তারপর ওই শিক্ষক নাম ডাকা থামিয়ে বেত হাতে তার কাছে গিয়ে মার শুরু করেন। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকলেও তিনি থামেননি। একপর্যায়ে সে টিকতে না পেরে শ্রেণিকক্ষের বাইরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী সহপাঠীরা বলে, ‘শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে দুই হাতে বেত নিয়ে তাকে বেদম পেটায়। এতে তার পিঠে ১৮টি জখম হয়েছে। ’ অভিযুক্ত শিক্ষক মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে হাজিরা নেওয়ার সময় ওই ছাত্র কটাক্ষ করে উত্তর দিচ্ছিল। মানা করলেও সে উছৃঙ্খল আচরণ করে। এরপর রাগে কয়েকটা বেত্রাঘাত করি। ছাত্রদের তো শাসন করাই যায়, এতে দোষের কিছু তো দেখি না। ’

নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, যন্ত্রণায় ছেলেটি কাতরাচ্ছে। এক সেবিকা তাকে ব্যথানাশক ইনজেকশন দিচ্ছেন। চিকিত্সা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুন্নাহার লুনা বলেন, ‘ছাত্রের শরীরে জ্বর আসতে শুরু করেছে। উন্নতমানের চিকিত্সা প্রয়োজন। ’ আহত ছাত্রের বাবা বলেন, ‘আমি এর বিচার চাই। ’ নান্দাইল রোড উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘কাল শনিবার ওই শিক্ষকের বিচার করা হবে। ’

নান্দাইল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘সরকারিভাবে নিষেধ আছে শিক্ষার্থীর গায়ে হাত না তুলতে। তার পরও যে শিক্ষক এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন, তাঁকে অনেক মূল্য দিতে হবে। ’


মন্তব্য