kalerkantho


বরিশাল-পটুয়াখালী-বরগুনা ও ঠাকুরগাঁও

বাস ধর্মঘট, ভোগান্তি

পটুয়াখালী ও ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বরিশাল-পটুয়াখালী-বরগুনা বাস মালিক ও শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছে। ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন বরিশাল-পটুয়াখালী-বরগুনা আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজারো যাত্রীসহ কুয়াকাটার পর্যটকরা।

এদিকে সড়ক ও মহাসড়কে অবৈধ টোল আদায় বন্ধের দাবিতে ঠাকুরগাঁওয়ে গতকাল সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট শুরু হয়েছে। গত বুধবার রাতে জেলা মোটর পরিবহন মালিক সমিতি কার্যালয়ে মালিক ও শ্রমিকদের যৌথসভা থেকে এ ধর্মঘটের ঘোষণা দেয় জেলা মোটর পরিবহন মালিক সমিতি ও মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। ধর্মঘটকারীদের দাবি, গত সোমবার সকালে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের বরগুনার আমতলী চৌরাস্তা এলাকায় মহেদ্র শ্রমিক ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ১৭ বাস শ্রমিককে আটক করে পুলিশ। মহাসড়কে অবৈধ মহেদ্র, ইজিবাইক ও ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল বন্ধ করা এবং আটক শ্রমিকদের মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে আন্দোলনকারীরা। সোমবার রাতে পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানিয়ে প্রশাসনকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয় বাস মালিক ও শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ।

বাস মালিক ও শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ আহ্বায়ক মো. রিয়াজ উদ্দিন মৃধা বলেন, ‘দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ’ জেলা প্রশাসক এ কে এম শামীমুল হক সিদ্দিকী বলেন, ‘সমস্যা সমাধানে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ’

ঠাকুরগাঁও জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জানান, বুধবার রাতে ট্রাক ও ট্যাংকলরি শ্রমিকরা পরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা নিয়ে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে অবস্থিত বাস শ্রমিকদের অস্থায়ী অফিস ভেঙে দেয়।

কিছু বাস শ্রমিক ও মালিক বাধা দিলে ওই শ্রমিকরা তাঁদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

জেলা মোটর মালিক সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমান বাবলু জানান, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৩ ডিসেম্বর ২০১৫ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জেলা শহরের বাস টার্মিনাল ছাড়া অন্য কোথাও টোল আদায় অবৈধ। তা সত্ত্বেও ট্রাক ও ট্যাংকলরি শ্রমিকরা জেলার বিভিন্ন সড়কে টোল আদায় করে আসছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভায় অভিযোগ করেও কোনো সমাধান হয়নি। উল্টো বুধবার রাতে ট্রাক ও ট্যাংকলরি শ্রমিকরা বাস মালিক ও শ্রমিকদের লাঞ্ছিত করে। এর তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত জেলার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।

অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ট্রাক ও ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি জয়নুদ্দিন। তিনি বলেন, বাস মালিক ও শ্রমিকরা জেলার কেন্দ্রীয় টার্মিনালসহ একাধিক স্থানে ট্রাক ও ট্যাংকলরি থেকে তিন বছর ধরে টোল আদায় করে আসছে। এ টোলের টাকা ট্রাক ও ট্যাংকলরি শ্রমিকরা পায় না। এ ব্যাপারে বুধবার রাতে টার্মিনাল এলাকায় বাস শ্রমিকদের বাধা দেওয়া হলে তারা ট্রাক ও ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এসে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, বুধবার রাতে দুই পক্ষই উত্তেজিত অবস্থায় পুরাতন বাস টার্মিনাল এলাকায় অবস্থান নিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে দুই পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়। সমস্যা সমাধানে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সভাকক্ষে জেলা প্রশাসকের উপস্থিতিতে সভা হওয়ার কথা। সেখানেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গতকাল শহরের বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে না গেলেও দূরপাল্লার বিআরটিসির বাস, জেলার আঞ্চলিক সড়কগুলোতে থ্রিহুইলার ও তিন চাকার অটোচার্জার চলাচল করতে দেখা গেছে।


মন্তব্য