kalerkantho


প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি

আখাউড়ায় দুই ধারা, অশান্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুটি কমিটিকেই পৃথক কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদন পাওয়া ও দেওয়া দুই কমিটির নেতারাই নিজেদের বৈধ বলে দাবি করছেন। এর মধ্যে দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে কমিটির একটি পক্ষে আগে থেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও আরেকটি পক্ষে নতুন করে সরকারি হওয়া শিক্ষকরা রয়েছেন। এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি আখাউড়া উপজেলা শাখার কমিটি গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। তবে সম্প্রতি জাতীয়করণ হওয়া রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা হঠাৎ ওই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসেন। তাঁদের দাবি, জেলার যে কমিটিকে মেনে নির্বাচন করা হচ্ছে সেটিরই কোনো বৈধতা নেই।

সূত্র মতে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকার কথা উল্লেখ করে সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. মনির হোসেন গত ২৮ জানুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতদের নাম ঘোষণা করেন। এতে তারগন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (আগে থেকে সরকারি) প্রধান শিক্ষক মৌসুমি আক্তার সভাপতি ও খড়মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (আগে থেকে সরকারি) সহকারী শিক্ষক ইকবাল হোসেন সাধারণ সম্পাদক হন। পরে ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম তোতা ওই কমিটির অনুমোদন দেন।

একই দিনে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. গাজীউল হক চৌধুরী ও ৩১ জানুয়ারি সংগঠনের ব্রাহ্মণবাড়িয়া শাখার সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন এতে সুপারিশ করেন।

এদিকে ৩১ জানুয়ারি আরেকটি কমিটির অনুমোদন দেন বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল্লাহ সরকার। ওই কমিটির সভাপতি হলেন সম্প্রতি জাতীয়করণ হওয়া দুর্জয়নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহতাব মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক সম্প্রতি জাতীয়করণ হওয়া আমোদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলীপ কুমার দেবনাথ। ওই কমিটি অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল হামিদ খান ও সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান হোসেন।

একটি কমিটির সভাপতি মৌসুমি আক্তার বলেন, ‘নির্বাচন করতে যাওয়া ব্যক্তি (মাহতাব মিয়া) এখন আরেকটি কমিটি অনুমোদন করিয়ে এনেছেন বলে শুনেছি। এর কারণ তিনিই ভালো বলতে পারবেন। আমাদের কমিটিতে সব শিক্ষকের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে। সবার মাঝে এ কমিটির গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ’

আরেক কমিটির সভাপতি মো. মাহতাব মিয়া বলেন, ‘আমরা সমিতি নির্বাচন করতে গিয়েছিলাম ঠিকই। কিন্তু জেলার যে কমিটির মাধ্যমে উপজেলা নির্বাচন হতে যাচ্ছিল সেই কমিটির গ্রহণযোগ্যতা নেই। যে কারণে আমরা সেখান থেকে সরে এসেছি। এখন তারা অবৈধভাবে কমিটি গঠন করে বিতর্কিত কেন্দ্রীয় ও জেলা কমিটি থেকে অনুমোদন নিয়ে এসেছে। কেন্দ্রীয় ও জেলার গ্রহণযোগ্য বৈধ কমিটি আমাদের করা কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছে। ’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. লোকমান হোসেন বলেন, ‘পাকিস্তান আমলে করা মূলধারার বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কমিটির সঙ্গে আমাদের কমিটি আছে। অন্য কমিটি সেটি অনুমোদন দিলে তা বৈধ হবে না। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নতুন বা পুরনো সরকারি স্কুলের শিক্ষকের মধ্যে আমি কোনো পার্থক্য দেখি না। আমার কাছে সব শিক্ষকই সমান। ’

বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মৌসুমি আক্তার ও ইকবাল হোসেনের কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছে। অন্য কোনো সংগঠনের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কোনো সম্পর্ক নেই।


মন্তব্য