kalerkantho


নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নতুন কমিটি

নাসিক কর্মচারীও নেতা কোথাও নেই তৈমূর

দিলীপ কুমার মণ্ডল, নারায়ণগঞ্জ   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপির ঘোষিত নতুন কমিটি নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। গত সোমবার জেলা ও মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।

পরের দিন মঙ্গলবার আংশিকভাবে ২৬ সদস্যের জেলা ও ২৩ সদস্যের মহানগর কমিটির অনুমোদন দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এই দুই আংশিক কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে ১৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনা রয়েছে অনুমোদনপত্রে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা বিএনপির বিগত কমিটির সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকারকে ঘোষিত নতুন কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়নি। সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক নেতাদেরও অবমূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে। কমিটিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) একজন কর্মচারী মহানগর বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক পদ পেয়েছেন। অথচ দ্বিতীয় যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে একজন নির্বাচিত কাউন্সিলরকে। এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে নেতাকর্মীদের মাঝে। তবে বিএনপির নেতাদের একাংশ এসব নিয়ে এখনই কথা বলতে নারাজ। আর পদ পাওয়া নেতারা আগামীতে দলকে আরো গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

জেলা কমিটিতে বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী মনিরুজ্জামানকে করা হয়েছে সভাপতি। আর অনেকটা চমক নিয়েই সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মামুন মাহমুদ। অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য আবুল কালামকে। সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বিলুপ্ত নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামালকে।

সূত্র জানায়, এর আগে ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি গঠন করা হয় সম্মেলন করে। সেখানে তৈমূর আলম খন্দকার সভাপতি, কাজী মনিরুজ্জামান সাধারণ সম্পাদক ও মুহাম্মদ শাহ আলম জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হন। এরপর সাত বছরেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয়নি। ২০০৯ সালের অক্টোবরে নারায়ণগঞ্জ নগর বিএনপির কমিটি গঠন করা হয় সম্মেলন করে। সেখানে জাহাঙ্গীর আলম সভাপতি ও এ টি এম কামাল সাধারণ সম্পাদক হন।

যুগ্ম সম্পাদক পদে কাউন্সিলরের সচিব : নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির প্রাথমিক ২৩ সদস্যের কমিটিতে দুজনকে যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে। তাঁদের একজন আজহারুল ইসলাম বুলবুল। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি নাসিকের ২০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর গোলাম নবী মুরাদের সচিব। নাসিক থেকে তাঁকে ‘দক্ষ শ্রমিক’ কোটায় প্রতি মাসে ছয় হাজার টাকা বেতন দেওয়া হয় মূলত কাউন্সিলরকে সহযোগিতা করতে। এসএসসি পাস বুলবুলের পরের যুগ্ম সম্পাদক করা হয়েছে নাসিকের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদকে। তিনি একই সঙ্গে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক। বুলবুল কাউন্সিলর মুরাদের সচিব হিসেবে কাজ করছেন স্বীকার করে বলেন, ‘কেন্দ্র যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তাকে স্বাগত জানাই। ’ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামাল বলেন, ‘কমিটি কেন্দ্র থেকে ঘোষিত। কেন্দ্র যে ২৩ জনকে পদায়ন করেছে সেটা কেন্দ্রের বিষয়। তবে আমরা বুধবার সকালে (গতকাল) বসেছিলাম। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে যোগ্যদেরই পদায়ন করা হবে। ’

জেলা ও মহানগরে পদে বিতর্কিতরা : মহানগরে ২৩ সদস্যের কমিটিতে সহসভাপতি হয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন খান। গত ২২ ডিসেম্বর তিনি নাসিকের মেয়র নির্বাচনে সেলিনা হায়াত আইভীর কাছে হারেন। তিনি ২০০৯ সালে গঠিত নারায়ণগঞ্জ শহর বিএনপির বিদ্রোহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মহানগর বিএনপির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম সরদার ছিলেন বিগত বিএনপির বিদ্রোহী কমিটির সভাপতি। সহসভাপতি পদ পাওয়া বন্দর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান মুকুল নানা কারণে বিতর্কিত। জেলা পরিষদের সভায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানকে ‘কুকুর’ গালি দেওয়ার ঘটনা হজম করেছিলেন তিনি। আরেক সহসভাপতি ফখরুল ইসলাম মজনু ছিলেন মহানগর বিএনপির বিদ্রোহী কমিটির নেতা।

২৬ সদস্যের জেলা কমিটিতে সহসভাপতি হয়েছেন শাহ আলম। একসময়ে তিনি কল্যাণ পার্টির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। তিনি একই সঙ্গে ফতুল্লা বিএনপির সভাপতি হলেও তাঁর বিরুদ্ধে নেই কোনো মামলা বা জিডি। কোনো আন্দোলনেই দেখা মেলেনি তাঁর। বিগত বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাসকে জেলা বিএনপির সহসভাপতি করা হয়েছে। জেলা কমিটির সদস্য পদে রাখা হয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য রেজাউল করীম ও গিয়াসউদ্দিনকে। তবে কমিটিতে রাখা হয়নি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকারকে।

প্রতিক্রিয়া : নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কিছু নেতা বলেন, যাঁরা নারায়ণগঞ্জে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, বিএনপি রাজনীতিকে ধরে রেখেছেন তাঁদের অনেককেই কমিটিতে রাখা হয়নি। এটা দুঃখজনক। তৈমূর আলম খন্দকার এখন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা। জেলা ও মহানগরের কমিটিতে রাখা না হলেও ‘আফসোস নাই’ মন্তব্য করেছেন তিনি। তৈমূর বলেন, ‘আমি নতুন কমিটিকে স্বাগত জানাই। এ কমিটি প্রত্যাশা পূরণ করবে বলে মনে করছি। ’ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদ জানান, ‘আমরা সকলে সমন্বয় করে খুব সুন্দর একটি রাজনীতি জেলায় উপহার দেব। ’ মহানগর বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম জানান, কমিটিতে সুন্দর সমন্বয় হবে। আবার নারায়ণগঞ্জ বিএনপি জেগে উঠবে।


মন্তব্য