kalerkantho


বেড়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধ’

সর্বহারা দলের আঞ্চলিক কমান্ডার নিস্তার নিহত

পাবনা প্রতিনিধি   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



পাবনার বেড়া উপজেলার আমিনপুরে পুলিশ-সন্ত্রাসীদের ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিস্তার ওরফে জাহিদ ওরফে নিজাম (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে। আমিনপুর থানার ঢালারচর ইউনিয়নের দড়িরচর নামক স্থানে মঙ্গলবার রাত সোয়া ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নিস্তার ওরফে নিজাম সদর উপজেলার খাসচর বলরামপুর গ্রামের মৃত ইয়াছিন আলীর ছেলে। পুলিশের দাবি, সে চরমপন্থী সর্বহারা দলের আঞ্চলিক নেতা ছিল।

আমিনপুর থানার ওসি তাজুল হুদা জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঢালারচরে চরমপন্থী দলের জুলহাস গ্রুপ ও নিস্তার গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে জানতে পেরে মঙ্গলবার গভীর রাতে সেখানে অভিযানে যায় পুলিশ। রাত সোয়া ৩টার দিকে দড়িরচর নামক স্থানে পুলিশ পৌঁছামাত্র সন্ত্রাসীরা গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে চরমপন্থী সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে ঘটনাস্থল থেকে নিস্তার ওরফে জাহিদ ওরফে নিজামের গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

ওসি আরো জানান, বন্দুকযুদ্ধে পুলিশ কনস্টেবল বেলাল হোসেন, জয়েন উদ্দিন ও রমজান আলী আহত হন। তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুটি শ্যুটারগান, দুটি দেশি রামদা ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত নিস্তার ওরফে জাহিদ ওরফে নিজাম ঢালারচরে চাঞ্চল্যকর তিন পুলিশ হত্যাসহ অন্তত ১২টি মামলার পলাতক আসামি ছিল বলে জানায় পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস জানান, নিহত নিস্তার নিষিদ্ধ ঘোষিত চরমপন্থী সংগঠন সর্বহারা দলের আঞ্চলিক নেতা ছিল। তার বিরুদ্ধে ঢালারচরের তিন পুলিশ হত্যাসহ পাবনা, রাজবাড়ী, কুষ্টিয়ার বিভিন্ন থানায় হত্যা, ডাকাতি, অপহরণসহ ১৩টি মামলা রয়েছে। অস্ত্র ও হত্যা মামলায় নিস্তার দীর্ঘদিন কারাগারেও ছিল বলে ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

এদিকে আমিনপুর থানার ওসি তাজুল হুদা দাবি করেছেন সম্প্রতি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে সাংবাদিক শিমুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিহত নিস্তার জড়িত ছিল বলে তাঁর কাছে তথ্য রয়েছে। এ বিষয়ে পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবীরের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, নিস্তার সাংবাদিক শিমুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল কি না, এ ব্যাপারে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে শিমুল হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি শাহজাদপুর পৌরসভার মেয়র মিরুর ছোট ভাই মিন্টুর সঙ্গে নিস্তার কাজ করত বলে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন।


মন্তব্য