kalerkantho


বাঘাইছড়িতেই নতুন ইসির প্রথম ‘দৌড়’

ফজলে এলাহী, রাঙামাটি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



বাঘাইছড়িতেই নতুন ইসির প্রথম ‘দৌড়’

কে এম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) দায়িত্ব পাচ্ছে আজ বুধবার। আগামী শনিবার রাঙামাটির বাঘাইছড়ি পৌরসভা নির্বাচন।

এ হিসেবে  নতুন ইসি কতটা নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে তার প্রথম পরীক্ষা এ নির্বাচন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ি। বছর দশেক আগে যাত্রা শুরু করা এই পৌরসভা শুরুতে প্রশাসক দ্বারা পরিচালিত হয়েছে।

পরে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন তত্কালীন পার্বত্য বাঙালি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলমগীর কবির। জেলার সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষকেতু চাকমা, আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য কামালউদ্দিন, প্রভাবশালী নেতা জ্যোতির্ময় চাকমা, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন, সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমার বাড়ি এ উপজেলায়।

অন্যদিকে জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত জহির আহম্মেদ, রাঙামাটি পৌর বিএনপির সভাপতি শফিউল আজম, জেলা যুবদলের সম্পাদক মো. ইলিয়াছের বাড়িও এ উপজেলায়।

নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন জাফর আলী খান। ধানের শীষের প্রার্থী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওমর আলী। তবে এ দুজনের দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছেন তৃতীয় প্রার্থী মোবাইল প্রতীকের আজিজুর রহমান আজিজ।

তিনি মারিশ্যা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা। নানা কারণে পরিচিত। রয়েছে একটি সমর্থক গোষ্ঠী। একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িত থাকা আজিজকে নির্বাচন থেকে সরাতে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে নানাভাবে চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তা সফল হয়নি। সমর্থকদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অঘোষিত বিদ্রোহীদের নীরব ভোট পাবেন তিনি। দলীয় প্রতীকের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয়ের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারছেন না কেউই।

সব ঝুঁকিপূর্ণ

প্রায় ১০ হাজার ১১৭ ভোটারের এই পৌরসভায় পাহাড়ি ভোটার প্রায় এক হাজার ৭০০। বাকিরা বাঙালি। ৯টি কেন্দ্রে ভোট নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে সব কটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. নাজিমউদ্দিন বলেন, ‘এখানকার বাস্তবতা একটু অন্য রকম। তাই সব কটি কেন্দ্রকে আমরা গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) হিসেবে বিবেচনা করছি। ’

কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা

দলীয় সূত্র জানায়, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদারের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বাঘাইছড়িতে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিশাল কর্মীবাহিনী পৌঁছে গেছে সেখানে। বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা।

কেন্দ্র দখলের আশঙ্কা প্রকাশ করে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শাহ আলম বলেন, ‘রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে যারা ভোট ডাকাতিতে নেতৃত্ব দিয়েছে, তারা সবাই এখন বাঘাইছড়িতে অবস্থান করছে। সেখানকার সব হোটেল রেস্টহাউস সরকারি দলের নেতাকর্মীদের দখলে। আমরা আশঙ্কা করছি, বাঘাইছড়িতেও রাঙামাটির ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে। এ কারণে গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আমরা নির্বাচনের আগেই বহিরাগতদের বের করে দেওয়া এবং প্রতিটি কেন্দ্রে বিজিবি নিয়োগের দাবি জানিয়েছি। ’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে এ সরকারের ওপর আস্থা রাখা কঠিন। এটি নতুন ইসির অধীনে প্রথম নির্বাচন। সুতরাং তাদের নিরপেক্ষতার প্রথম পরীক্ষা এটা। এতে পাস করলেই বোঝা যাবে, তাদের অধীনে আদৌ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে কি না। ’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মুছা মাতব্বর বলেন, ‘আমরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। বিএনপি নিশ্চিত পরাজয় জেনে উল্টাপাল্টা অভিযোগ করছে। ’

রাঙামাটি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাজিমউদ্দিন বলেন, ‘বহিরাগতদের পৌর এলাকা ছাড়ার জন্য বুধবার (আজ) থেকে মাইকিং শুরু হচ্ছে। আশা করছি, সবাই বেরিয়ে গিয়ে সহযোগিতা করবে। আমরা বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। বিজিবি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে টহল দেবে। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য অবশ্যই চ্যালেঞ্জ। কারণ নতুন ইসি দায়িত্ব নিয়েই এই নির্বাচন। আমরাও চেষ্টা করছি সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে। সবার সহযোগিতা পেলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। ’

 


মন্তব্য