kalerkantho


ই স লা মী বি শ্ব বি দ্যা ল য়

ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ হঠাৎ ‘ভয়ংকর’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ হঠাৎ ‘ভয়ংকর’

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে গতকাল এভাবেই ভাঙচুর চালায় ছাত্রলীগ। ছবি : কালের কণ্ঠ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হঠাৎ তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ। ক্যাম্পাসের মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের কাজ বন্ধসহ বিভিন্ন ভবনে ভাঙচুর করেছে সংগঠনটির কর্মীরা। মঙ্গলবার সকালে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাসের নেতৃত্বে এ তাণ্ডব চালায় তারা। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এদিকে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের এমন তাণ্ডব কাণ্ডের কারণ খুঁজে পাচ্ছে না প্রশাসন। ক্যাম্পাসের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্বে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক, অর্থনৈতিক সব কার্যক্রম দুর্নীতিমুক্ত রাখার প্রয়াস চালায়। এর আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে মোটা অঙ্কের টাকাসহ কাজের ভাগ পেলেও এখন তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ছাত্রলীগ। এ নিয়ে বর্তমান প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্রলীগের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের ক্ষোভ এবং নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিতে ছাত্রলীগ মঙ্গলবার এ তাণ্ডব চালাতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে দলীয় টেন্ট থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ব্যবসা অনুষদের দিকে যায়। প্রথমে সেখানে গিয়ে হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরীনের কক্ষে ভাঙচুর চালায় তারা।

আতাউর রহমান, মোতাসিম বিল্লাহ নোমান, কামারুজ্জামান সাগরসহ বেশ কিছু কর্মী এ ভাঙচুরে অংশ নেয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা নিশ্চিত করেছে। এ সময় তারা চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র চুরমার করে। ব্যবসা অনুষদ থেকে বের হয়ে ছাত্রলীগকর্মীরা প্রশাসন ভবনে গিয়ে বিভিন্ন অফিসের সামনে চেঁচামেচি শুরু করে। ছাত্রলীগের হৈ-হুল্লোড় শুনে কর্মকর্তারা আতঙ্কে অফিস থেকে বের হয়ে আসেন। প্রশাসন ভবন থেকে বের হয়ে ছাত্রলীগকর্মীরা পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়া বিজ্ঞান ভবনে যায়। সেখানে তারা বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শামসুল আলম ও ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ‘এফ’ ইউনিটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলামের কক্ষের সামনে গিয়ে চিত্কার করতে থাকে। এ সময় তারা তাদের উদ্দেশ করে গালমন্দ করেছে বলেও জানিয়েছে প্রত্যড়্গদর্শীরা। পরে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাশে গাছ কাটা এবং কেন্দ্রীয় মসজিদের নিচে মুক্তিযুদ্ধ কর্নারের আসবাবপত্র তৈরির কাজ বন্ধ করে দেয়। এ সময় ছাত্রলীগকর্মীদের সঙ্গে থাকা বহিরাগতরা কর্মরত কয়েকজন কাঠমিস্ত্রিকে মারধর করে বলে জানিয়েছে এস্টেট অফিস। এদিকে ক্যাম্পাসজুড়ে ছাত্রলীগের হঠাৎ তাণ্ডবে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

এ ব্যাপারে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি দুঃখজনক। কোনোভাবেই প্রশাসন এটা মেনে নেবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ম্যাডামের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। হয়তো সেখানে অনেক মানুষের ভিড়ে আসবাবপত্র পড়ে গেছে। ক্যাম্পাসে অনেক কাজ সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে না, তাই আমরা তা বন্ধ করে দিয়েছি। ছাত্রলীগ চায় ক্যাম্পাসের সব কাজ সুষ্ঠু ও দুর্নীতিমুক্ত হোক। ’

ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন : এদিকে ঘটনার পর দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস কর্নারে ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক অমিত কুমার দাস সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এ সময় তাঁরা ক্যাম্পাসে ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি হচ্ছে বলে অভিযোগ এনে তা প্রতিকারের দাবি জানান।

 


মন্তব্য