kalerkantho


ভোলা বিএনপি

হাফিজ অবাঞ্ছিত ‘পকেট কমিটি’ বাতিলের দাবি

ভোলা প্রতিনিধি   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



হাফিজ অবাঞ্ছিত ‘পকেট কমিটি’ বাতিলের দাবি

ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদকে ‘সংস্কারপন্থী’ আখ্যা দিয়ে তাঁকে এলাকায় ফের অবাঞ্ছিত করেছে দলটির এক পক্ষ। মঙ্গলবার সকালে ভোলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে এ ঘোষণা দেয় হাফিজবিরোধী ওই পক্ষটি। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় অফিস দখলকারী আত্মীয়স্বজনদের সমন্বয়ে গঠিত পকেট কমিটি বাতিলেরও দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মেজর হাফিজ এলাকায় গিয়ে কমিটি না করে ঢাকা ও ভোলা শহরে বসে কমিটি করেন। এ কারণে লালমোহন ও তজুমদ্দিন বিএনপি তিন-চার ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। তাই তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনি তাঁর আত্মীয়দের সমন্বয়ে গঠিত পকেট কমিটির মাধ্যমে জেলা সম্মেলন করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ’ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এক/এগারোর সময় আমি দলের মূল ধারার পক্ষে অবস্থান নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রেখেছি। এ কারণে সংস্কারের মহাসচিব মেজর (অব.) হাফিজ আমাকে ও আমার সঙ্গে থাকা বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অহেতুক হামলা-মামলা করে নির্যাতন চালান। এমনকি আমাদের দল থেকে বহিষ্কারেরও চেষ্টা চালিয়েছেন। একপর্যায়ে তাঁর স্বজন ও ওই সময়ের কেন্দ্রীয় অফিস দখলকারীদের সমন্বয়ে লালমোহন-তজুমদ্দিন উপজেলায় পকেট কমিটি গঠন করেন।

ওই পকেট কমিটি দিয়ে ভোলা জেলা সম্মেলন করার চেষ্টা করছেন। এ কারণেই মেজর হাফিজ দীর্ঘ আট বছর ধরে তাঁর নিজ নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারছেন না। তিনি এলাকায় গেলে বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা তাঁর সংস্কারবাদী পকেট কমিটির ব্যাপারে দলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি। ’

এদিকে লালমোহন-তজুমদ্দিনের বিএনপির কমিটি বাতিল না করে ভোলা বিএনপির সম্মেলন করার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করারও ঘোষণা দেওয়া হয় ওই সংবাদ সম্মেলনে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপির প্রস্তাবিত সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদল সভাপতি নাছির উদ্দিন ভুট্টো, উপজেলা যুবদলের সহসভাপতি হুমায়ুন পাটওয়ারী, যুগ্ম সম্পাদক হাজি আকতার হোসেন, উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের তালুকদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহসভাপতি মহসিন মহাজন, সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন, উপজেলা তাঁতীদলের সভাপতি মিজানুল কবির, উপজেলা ওলামা দলের নেতা মাওলানা ফরিদ, লালমোহন উপজেলা বিএনপির প্রস্তাবিত সহসাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলম খায়ের, চরভূতা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আলাউদ্দিন প্রমুখ।

উল্লেখ্য, প্রায় এক বছর আগেও তজুমদ্দিন ও লালমোহন উপজেলা বিএনপির কমিটি গঠিত হলে সে সময় হাফিজ উদ্দিন আহম্মদকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছিল। এ ব্যাপারে মঙ্গলবার দুপুরে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ভোলা জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর বলেন, লালমোহন-তজুমদ্দিন বিএনপির একটি গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরেই হাফিজ উদ্দিন আহম্মদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তারা প্রকৃত বিএনপির নেতাকর্মী নয়।

 


মন্তব্য