kalerkantho


তারুণ্যের মাতামাতি

প্রিয় দেশ ডেস্ক   

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



তারুণ্যের মাতামাতি

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ছিল গতকাল মঙ্গলবার। নানা রকম আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিবসটি উদ্যাপন করা হয়েছে। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে ব্যতিক্রমী কয়েকটি আয়োজন :

গাইবান্ধা : জেলা পৌর পার্ক বিকেলে ছিল মানুষে ঠাসা। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বাঁধানো ঘাটে বসে হাসি, গান আর গল্পগুজবে মত্ত সবাই। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার পর হঠাৎ মূল গেটে পুলিশের একটি দল উপস্থিত হলে পাল্টে যায় পরিস্থিতি। পার্কজুড়ে শুরু হয় মৃদু গুঞ্জন। পুলিশের কোনো অভিযান কি না—এমন ভেবে কিছুটা কৌতূহলী হয়ে ওঠে সবাই। কিন্তু কিছুক্ষণ পর হাতে ফুলের ডালি আর মুখে মৃদু হাসি নিয়ে পার্কের ভেতরে পুলিশ সদস্যদের প্রবেশের দৃশ্য চমকে দেয় সবাইকে। তারা সবাইকে হাসিমুখে আশ্বস্ত করে। এরপর ঘুরে ঘুরে পার্কে বেড়াতে আসা সব বয়সী নারী-পুরুষের হাতে ফুল তুলে দেয়।

আয়োজক গাইবান্ধা সদর থানার ওসি এ কে এম মেহেদী হাসান বলেন, ‘মানুষকে আপন করার জন্য পেশিশক্তির চেয়ে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা, জুঁই ও চামেলি অনেক বেশি শক্তিশালী। ভালোবাসা দিয়ে সমাজ থেকে সব ধরনের অনাচার দূর করা সম্ভব। পুলিশ সদস্যরা এ চেষ্টাই করছেন। ’

সিরাজগঞ্জ : শহরের মুক্তির সোপান থেকে যমুনা নদীর হার্ড পয়েন্ট পর্যন্ত মিনি ম্যারাথন (সংক্ষিপ্ত দৌড় প্রতিযোগিতা) আয়োজন করা হয়। এতে সাত শতাধিক মানুষ অংশ নেয়। সিরাজগঞ্জ ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এর আয়োজন করে। আয়োজক কমিটির প্রধান ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না বলেন, ‘দেশে অসংক্রামক ব্যাধি বেড়ে যাচ্ছে। তাই সচেতনতা বাড়াতে এমন আয়োজন। ’

ফরিদপুর : ‘আমরা কবর জয়’ নামের শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন স্নেহবঞ্চিত পথশিশু ও রেল বস্তির দরিদ্র শিশুদের জড়ো করে গান ও কবিতা আবৃত্তিসহ নানা আয়োজন করে। আয়োজন শেষে ৩০ জন শিশুকে খাবার খাওয়ানো হয়। সংগঠনের সভাপতি আহমেদ সৌরভ বলেন, ‘সমাজে পিছিয়ে পড়া শিশুদের সঙ্গে ভালোবাসার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে এ আয়োজন। ’

মেহেরপুর : শহরের বিভিন্ন এলাকার ৭০ জন ভিক্ষুককে খাবার ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায় এক দল তরুণ। তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে। অনেকে আবার ছাত্র। আয়োজক ‘জাগ্রত তরুণ সম্প্রদায়ে’র কর্মী সাইদুল ইসলাম অরেণ বলেন, ‘অসহায় মানুষদের এক বেলা খাবার ও তাদের হাতে ফুলে তুলে দিতে পরে খুব ভালো লাগছে। ’ অন্যদিকে সকালে শহরের কোর্ট মোড়ে পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান সাধারণ পথচারীদের হাতে ফুল তুলে দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

ঝালকাঠি : ‘নির্ভয়ে ভালোবাসায় থাকবে পাখি নীড়ে’ এ স্লোগানে পাখির প্রতি ভালোবাসায় গাছে গাছে হাঁড়ি বেঁধে দিয়েছে এক দল তরুণ। সকালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মিজানুল হক চৌধুরী। পাখি প্রেমিক ‘আমরা ক জন’ নামের কর্মসূচির উদ্যোক্তা মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘ভালোবাসা দিবসে ১০১টি হাঁড়ি ঝুলিয়েছি। ’

নড়াইল : দুপুরে শহরের একটি শপিং কমপ্লেক্সের সামনে ৫০ ছিন্নমূল শিশুর মধ্যে কেক কেটে, ক্যাডবেরি চকোলেট, ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টি বিতরণ করে এক দল তরুণ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া : ফেসবুকভিত্তিক সংগঠন ‘বন্ধু তোমাকে চাই অসহায় মানুষের পাশে’র উদ্যোগে জেলা পুলিশ লাইনে প্রতিবন্ধীদের জন্য আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠান। নাচ, গান, জাদু, কবিতা পাঠ, খেলাধুলার এ আয়োজন ছিল দিনব্যাপী। পুরো অনুষ্ঠান উপভোগ করে শ খানেক প্রতিবন্ধী। পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসাইন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী হেদায়তুল আজিজ মুন্না। এ ছাড়া আখাউড়া রেলস্টেশনে ‘ডুয়িং সামথিং ডিফারেন্ট ফর ব্রাহ্মণবাড়িয়া’র উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিতদের নিয়ে কেক কাটাসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্টেশনের ৪০ শিশুর মধ্যে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া নবীনগর মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা দরিদ্রদের মধ্যে নগদ অর্থ ও খাবার বিতরণ করে।

যশোর : ভালোবাসা দিবসে গতকাল মঙ্গলবার যশোরে হয়ে গেল ব্যতিক্রমধর্মী রক্তদান উৎসব। যশোর পৌর পার্কে উৎসবের উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু। আহাদ রেড ক্রিসেন্ট, আমরা যশোর, থ্যালাসেমিয়া ও হিমোফেলিয়া সমিতি আয়োজিত এ উৎসবে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বেচ্ছায় রক্ত দেন। পার্কের রেইনট্রি গাছের ছায়াতলে ছবি এঁকে, কবিতা পড়ে, গান গেয়ে উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে তারা। যশোর এম এম কলেজের মাস্টার্সের ছাত্রী শান্তা বলেন, ‘প্রতিবছর ভালোবাসা দিবসে রক্ত দিয়ে মানবতার প্রতি প্রেম নিবেদন করি। ’ উৎসবের প্রথম রক্তদাতা শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়ার ব্যবসায়ী রকিবুর রহমান রকি বলেন, ‘আমার রক্তে একজন রোগী সুস্থ হয়ে উঠবে। রক্তের প্রতি তাঁরও ভালোবাসা জাগবে। ’


মন্তব্য