kalerkantho


কলেজ ছাত্রকে নির্যাতন-হয়রানি

রাজাপুর থানার ওসিসহ চারজনের নামে মামলা

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



কলেজ ছাত্রকে শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি মিথ্যা চুরির মামলায় সন্দেহভাজন আসামি করে হয়রানির অভিযোগে ঝালকাঠির রাজাপুর থানার ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা ও এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে নির্যাতিত কলেজ ছাত্র বাদী হয়ে মামলাটি করেন। আদালত আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি শুনানির দিন ধার্য করেন।

মামলার আসামিরা হলেন রাজাপুর থানার ওসি শেখ মুনীর উল গীয়াস, এসআই মো. নজরুল ইসলাম, এএসআই সঞ্জীবন বালা ও রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. আবুল খায়ের মাহামুদ রাসেল।

মামলার বিবরণে জানা যায়, উপজেলার টিঅ্যান্ডটি সড়ক এলাকার মৃত শাজাহান আলীর ছেলে স্থানীয় বড়ইয়া ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ ইমরান হোসেন আদনান সৌদি আরব যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গত বছরের ৩০ নভেম্বর আদনানকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেন রাজাপুর থানার ওসি। পরে গত ৭ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে রাজাপুরের বাসা থেকে দুই ভাই আদনান ও মুরাদকে থানায় ডেকে পাঠান ওসি শেখ মুনীর। তাঁরা থানায় এলে আদনানকে চোর আখ্যায়িত করে চুরির মামলায় স্বীকারোক্তি আদায়ের জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। তাতে রাজি না হওয়ায় ওসির কক্ষে আদনানকে এসআই নজরুল ইসলাম ও এএসআই সঞ্জীবন বালা বেধড়ক পেটান। এ সময় ওসি তাঁকে ক্রসফায়ারে দেওয়ারও হুমকি দেন।

মারধরের একপর্যায়ে আদনান জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাঁকে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. আজম তাঁকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির জন্য বলেন। তাঁকে বরিশাল নেওয়া হচ্ছে জানতে পেরে ওসি চিকিৎসক আবুল খায়ের মাহামুদ রাসেলকে ম্যানেজ করেন। ডা. রাসেল অসুস্থ আদনানকে বরিশাল না পাঠিয়ে রাজাপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ভর্তি করেন। ফলে আদনানের সুচিকিৎসা হয়নি।


মন্তব্য