kalerkantho


দীঘিনালায় মেম্বার সজীবের দাপট

দীঘিনালা (খাগড়াছড়ি) প্রতিনিধি   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



দীঘিনালায় মেম্বার সজীবের দাপট

শাহ আলম ভূঁইয়া সজীব

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নারী-পুরুষ-নির্বিশেষে সবাইকে কারণে-অকারণে মারধর করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা।

তাঁর রয়েছে বিশেষ ক্যাডার বাহিনী। সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কক্ষ ভাঙচুর করে গ্রেপ্তার হন পুলিশের হাতে। এ ছাড়া এক ব্যক্তির মাথা ফাটানোর অভিযোগে আদালতে মামলাও হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শাহ আলম ভূঁইয়া সজীব বেতছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতিও। এ বছর ওই বিদ্যালয়ে বই বিতরণের সময় টাকা নেওয়ার অভিযোগের মধ্য দিয়ে তাঁর চরিত্র প্রকাশ পেতে থাকে এলাকায়। শিক্ষার্থীদের ১০ জন অভিভাবক বাদী হয়ে লিখিত অভিযোগ করেন জেলা প্রশাসকের কাছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টির তদন্ত করেন। তদন্ত চলাকালে অভিভাবক আরিফ হোসেনকে গলা ধাক্কা দিয়ে বিদ্যালয় থেকে বের দেন সজীব।

আরিফ হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগকারী না হয়েও সেখানে যাওয়ার কারণে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে তাঁকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়।

এ ছাড়া হুমকি দেওয়া হচ্ছে অভিযোগকারীদেরও। প্রধান অভিযোগকারী নজরুল ইসলাম জানান, অভিযোগের পর থেকেই সজীব মেম্বার তাঁকে শায়েস্তা করার জন্য হুমকি দিয়ে আসছেন।

গত ২৮ জানুয়ারি বাচামেরুং এলাকার আবদুল বারেকের বাড়িতে গিয়ে কোনো পুরুষ না পেয়ে তাঁর স্ত্রী মিনারা খাতুন ও মেয়ে আছিয়া খাতুনকে মারধর করেন সজীব। মিনারা খাতুন জানান, সজীব দুজন সঙ্গী নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়িতে গিয়ে মা-মেয়েকে মারধর করেন।

এ ব্যাপারে বারেক জানান, তাঁর সঙ্গে জমি নিয়ে প্রতিবেশীর বিরোধ চলছে। দুই দিন আগে সজীব গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে বিচারের জন্য ডেকেছিলেন। কিন্তু তিনি না গিয়ে বলেছিলেন, বিচারের জন্য নোটিশ পাঠালে তবেই যাবেন। এ কারণে রাগান্বিত হয়ে সজীব বাড়িতে গিয়ে তাঁকে মারধর করেছেন। তবে ঘটনাটি নিয়ে লিখিত অভিযোগ করেননি তিনি। কারণ হিসেবে বারেক জানান, ইউপি চেয়ারম্যান বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তাই তিনি অপেক্ষা করছেন।

এ ঘটনার আগের দিন ২৭ জানুয়ারি মানিক বেতছড়ি এলাকার মুক্তিযোদ্ধা ছোট্ট মোহাম্মদের ছেলে শহিদুল ইসলামকে মারধর করেন। এতে শহিদুলের মাথা ফেটে গেলে কয়েকটি সেলাই দিতে হয়। শহিদুলের অভিযোগ, সজীবের নির্দেশেই তাঁর ক্যাডার মানিক এ হামলা চালান। এ ঘটনায় শহিদুল বাদী হয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি খাগড়াছড়ি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় সজীবকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এদিকে গত ১ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে ভিজিডি কার্ডের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে চেয়ারম্যানের ওপর ক্ষুব্ধ হন সজীব। তখন চেয়ারম্যান অফিসে ছিলেন না। একপর্যায়ে তিনি চেয়ারম্যানের সিল মেঝেতে আছড়ে ভেঙে ফেলেন। তা ছাড়া কক্ষের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় চেয়ারম্যান বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে সেদিনই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। অবশ্য পরদিন আদালত থেকে তিনি জামিনে ছাড়া পান।

ইউপি চেয়ারম্যান রহমান কবীর রতন জানান, সজীবের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরেই সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। সর্বশেষ অফিসে ভাঙচুরের মাধ্যমে তাঁর আসল পরিচয় জানা গেল। পরিষদে যিনি এমন কাণ্ড করতে পারেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি কেমন আচরণ করতে পারেন তা বোঝাই যায়।

তবে অভিযুক্ত শাহ আলম সজীব এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, একটি পক্ষ শুরু থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার। তারাই তাঁকে হেনস্তা করতে বিভিন্ন অভিযোগ তুলছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিউটন মহাজন জানান, সজীব যা করছেন এসবের দায়ভার দল নয়, তাঁর নিজেকেই নিতে হবে।


মন্তব্য