kalerkantho


১০ টনের সেতুতে ট্রাক ২৫ টনি

ধসে গেছে মাগুরা-যশোর মহাসড়কের সীমাখালী সেতু

মাগুরা প্রতিনিধি   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



১০ টনের সেতুতে  ট্রাক ২৫ টনি

মাগুরা-যশোর মহাসড়কের সীমাখালী সেতুর ওপর দিয়ে ২৫ টন ওজনের দুটি ট্রাক পার হওয়ার সময় ভার সইতে না পেরে গতকাল সকালে ধসে পড়ে। ছবি : কালের কণ্ঠ

সেতুর সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০ টন। ২৫ টন ওজনের দুইটি ট্রাক পার হচ্ছিল।

ভার সইতে না পেরে মাগুরা-যশোর মহাসড়কে চিত্রা নদীর ওপর থাকা সীমাখালী সেতু গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় ধসে গেছে। এ ঘটনায় আহত দুজনকে যশোর ২৫০ শয্যার হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা মাগুরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান জানান, ৩৫ বছর আগে ৬০ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুটি তৈরি হয়। এর বেইলি অংশ ৪৭ মিটার ও আরসিসি ১৩ মিটার। সেতুর ওপর দিয়ে মালসহ সর্বোচ্চ ১০ টন ওজনের যানবাহন চলার কথা। সেখানে পাথরের খোয়াভর্তি ১০ চাকার দুইটি ট্রাক যার ওজন ৫০ টন ও অন্য একটি পিকআপ একসঙ্গে পার হচ্ছিল। এ কারণে সেতুটি ধসে পড়ে।

সেতুর ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ কত টন মালবাহী যানবাহন পার হতে পারবে, সে ধরনের কোনো নোটিশ লক্ষ্য করা যায়নি। এ বিষয়ে সহকারী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, ‘এ ধরনের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি।

তদারকির জন্য কোনো জনবলও নেই। থাকলে ভালো হতো। ’

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, সেতুর উত্তরে মাগুরা ও দক্ষিণে যশোর জেলা। সেতুর দক্ষিণ দিকের বেশির ভাগ অংশ ধসে গেছে। যার ফলে দুদিকে সড়কের উভয় পাশে কমপক্ষে তিন শতাধিক যানবহন আটকে গেছে। কর্তৃপক্ষ দুটি ট্রাক ও একটি পিক-আপ উদ্ধারের চেষ্টা করছে। দুপাশে আটকে পড়া যানবাহনগুলোকে বিকল্প পথ হিসেবে ঝিনাইদহ ঘুরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

মাগুরার ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘সাধারণ মালবাহী ট্রাকে পাঁচ-সাত টন পণ্য বহনের নিয়ম। কিন্তু এটা মানা হয় না। ঢাকা থেকে দক্ষিণাঞ্চলে আসার পথে মানিকগঞ্জের গ্লোরা হাইওয়ে পুলিশ যন্ত্রে ওজন মাপে। এটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হলে অতিরিক্ত মাল বহনের সুযোগ থাকে না। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া জেলাপর্যায়ে সড়কের নিরাপত্তার জন্য সব ধরনের প্রযুক্তিসুবিধা বাড়ানো উচিত। ’

মাগুরার শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমি মজুমদার বলেন, ‘সেতুর ওপর আটকে থাকা যানবাহনগুলো প্রশাসনের জিম্মায় আনা হচ্ছে। একটি তদন্তদল গঠন করা হচ্ছে। ’

সীমাখালীর ব্যবসায়ী লক্ষ্মণ মণ্ডল ও হাবিবুর রহমান জানান, এই সেতু দিয়ে প্রতি ঘণ্টায় কমপক্ষে দুই শতাধিক গাড়ি মাগুরা হয়ে যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জেলায় যায়। একইভাবে ওই সব জেলা থেকে সমসংখ্যক যানবহন ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যায়। এটি ধসে যাওয়ায় মাগুরা থেকে যশোর যাওয়ার জন্য ৪৬ কিলোমিটারের পরিবর্তে ঝিনাইদহ হয়ে ৬৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হবে। ফলে সময় যেমন ২০ মিনিট বেশি লাগবে। তেমনি খরচও বাড়বে। এ কারণে তারা যত দ্রুত সম্ভব বিকল্পসহ একটি উন্নতমানের সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে মাগুরা সড়ক ও জনপথ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, ‘বিকল্প হিসেবে আপাতত একটি ছোট বেইলি সেতু যেকোনো পাশে নির্মাণ করা জরুরি। সে জন্য কমপক্ষে এক মাস সময় প্রয়োজন। আপাতত যশোর খুলনাসহ আশপাশের জেলায় যাতায়াতকারী যানবাহনকে বিকল্প হিসেবে মাগুরা থেকে এ পথে না এসে ঝিনাইদহ ঘুরে যেতে হবে। এটা জনসাধারণকে জানানোর জন্য একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হবে। ’


মন্তব্য