kalerkantho


সুন্দরবন দিবস আজ

ধুঁকছে বন, বিপন্ন প্রাণ

৩৯২ প্রজাতির প্রাণীর বাস

বিষ্ণু প্রসাদ চক্রবর্ত্তী, বাগেরহাট   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ধুঁকছে বন, বিপন্ন প্রাণ

দেশে বন্য প্রাণীর বৃহত্তম আবাসস্থল সুন্দরবন। জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বনের আকার ছোট হয়ে আসছে।

কাছাকাছি গড়ে উঠছে বাণিজ্যিক স্থাপনা। একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে চাচ্ছে সরকার। পরিবেশবিদদের আশঙ্কা, এতে বন ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বনে বসবাসকারী প্রাণীও মারা যাবে।

বন বিভাগের তথ্য মতে, বর্তমানে সুন্দরবনের আয়তন ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলেমিটার। এর মধ্যে স্থলভাগ চার হাজার ১৪৩ এবং জলভাগ এক হাজার ৮৭৩ বর্গকিলোমিটার। ১৮৭৮ সালে সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তখন এর আয়তন ছিল দ্বিগুণ। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ১৯৯৭ সালে এ বনের তিনটি অভয়ারণ্যকে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে।

বনে বর্তমানে ৩৯২ প্রজাতির অধিক বন্য প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫ প্রজাতির সরীসৃপ, ৩১৫ প্রজাতির পাখি এবং ৪২ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী রয়েছে। বনে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল হরিণ, বন্য শূকর, বানর, কুমির, ডলফিন, কচ্ছপ, উদবিড়াল, মেছোবিড়াল ও বনবিড়াল রয়েছে। ১০৬টি বাঘ, এক থেকে দেড় লাখ হরিণ, ৪০ থেকে ৫০ হাজার বানর, ২০ থেকে ২৫ হাজার বন্য শূকর, দুই শতাধিক কুমির ও ২০ থেকে ২৫ হাজার উদবিড়াল রয়েছে। ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড রয়েছে। এর প্রধান বনজ দ্রব্য হচ্ছে সুন্দরী, পশুর, গেওয়া, ধুন্দুল ও কাঁকড়া গাছ। এ ছাড়া গোলপাতা, হেতাল, ছন, মাছ ও মধু পাওয়া যায়।

স্থানীয় সূত্র মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে বনের মধ্য দিয়ে চলতে গিয়ে ফার্নেস তেলবোঝাই ট্যাংকার, কয়লাবোঝাই কার্গো এবং পটাসিয়াম সারবোঝাই কার্গো ডুবেছে। এর ওপর বনের কাছে বাগেরহাটের রামপালে বাংলাদেশ-ভারত যৌথভাবে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উত্পাদন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম থেকে পরিবেশবাদীরা বন বাঁচাতে এ প্রকল্প বন্ধের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

সুন্দরবন দিবস স্বীকৃতি দিচ্ছে না সরকার

২০০১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি খুলনায় প্রথম জাতীয় সুন্দরবন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বেসরকারি সংগঠন রূপান্তর যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে। সম্মেলনে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘সুন্দরবন দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। জাতীয়ভাবে দিবসটি পালনের দাবি জানানো হয় সরকারের কাছে। কিন্তু সেই দাবি আজও পূরণ হয়নি।

রূপান্তরের পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, তিন-চার বছর ধরে সুন্দরবন দিবস পালনে স্থানীয়ভাবে বন বিভাগ অংশ নিচ্ছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের কোনো সাড়া মেলেনি।

গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সুন্দরবন একাডেমির পরিচালক ফারুক আহম্মেদ বলেন, বনসংলগ্ন জেলাগুলোতে বেসরকারিভাবে সুন্দরবন দিবস পালন করা হয়। এ বছরও বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরায় দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন বলেন, বনের গুরুত্ব অনুধাবন এবং রক্ষার সুবিধার্থে সরকারিভাবে সুন্দরবন দিবস পালন করা উচিত। সরকারিভাবে পালন করা হলে মানুষ বন সম্পর্কে আরো বেশি জানতে পারবে। তারা বনের সম্পদ রক্ষায় আরো বেশি উদ্যোগী হবে।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘সুন্দরবন দিবসের গুরুত্বের কথা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানাব। ’


মন্তব্য