kalerkantho


নান্দাইলে স্কুলে তালা

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



ময়মনসিংহের নান্দাইলের রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুর্বৃত্তরা তালা লাগিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার দুপুর পর্যন্ত ওই বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ ছিল। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে তালা ভেঙে পাঠদান করা হয়। এর আগে খবর পেয়ে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর পৌনে ১২টা বাজলেও বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বাইরে দাঁড়ানো। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে লাগানো তালার ওপর অন্য একটি তালা লাগানো রয়েছে। শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে না পেরে শিক্ষার্থীরা এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করছে। আবার অনেকে অপেক্ষা করে বাড়ি চলে যাচ্ছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দিদারুল ইসলাম জানান, তিনি সকাল সাড়ে ১০টায় বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখতে পান শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে ঢুকতে পারছে না। এ সময় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে আগের লাগানো তালার ওপর অন্য একটি তালা ঝুলছিল। এই অবস্থায় শ্রেণিকক্ষের তালার চাবিও বের করা যাচ্ছে না। বিষয়টি তিনি তাত্ক্ষণিক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার একমাত্র জুনিয়র বিদ্যালয় এটি। এখানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। ৬৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বিদ্যালয়টিতে। এলাকার চিহ্নিত জুয়াড়ি ও মাদকসেবীরা বিদ্যালয়টি নিরাপদস্থল মনে করে গভীর রাতে আড্ডায় মেতে থাকে। এই অবস্থায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এর ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সহসভাপতি মো. শরাফত আলী জানান, গত শনিবার বিকেলে এলাকার লিটন মিয়া নামের এক ব্যক্তি বিদ্যালয়ের প্রবেশপথে তালা লাগানো দেখে তাঁর কাছে চাবি চায়। চাবি তাঁর কাছে নেই বলার পর একটি হাতুড়ি দিয়ে তালা ভাঙার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে গালাগাল করে চলে যায়। এরপর গতকাল সকালে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নতুন আরেকটি তালা লাগানো দেখতে পান। এ বিষয়ে লিটন জানান, শিক্ষকরা যথাসময়ে বিদ্যালয়ে আসেন না। আর এলেও নামমাত্র ক্লাস করে বাড়ি চলে যান। এ ঘটনায় হয়তো ক্ষিপ্ত হয়ে কেউ তালা লাগাতে পারে। ফটকের তালা ভাঙা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলে পানি খাওয়ার জন্য তালা লাগানো দেখে তিনি তা খোলার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ে তালা লাগানোর ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য