kalerkantho


এসএসসি পরীক্ষা : নান্দাইল ও ক্ষেতলাল

নকলে বাধা পেয়ে শিক্ষককে পিটুনি কর্মকর্তা লাঞ্ছিত

ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



নকল করতে বাধা পেয়ে এসএসসি পরীক্ষা শেষে শিক্ষকের বাসায় ঢিল ও তাঁকে সড়কে ফেলে পিটিয়েছে ছাত্ররা। অভিযুক্তরা সবাই ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র।

গতকাল রবিবার দুপুর ১টার পর এ ঘটনা ঘটেছে নান্দাইলের কাকচর মহল্লায়।

নান্দাইল বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান জানান, তিনি গতকাল তাঁর বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ১১০ নম্বর কক্ষের পরিদর্শক ছিলেন। কয়েকজন শিক্ষার্থী নকল করার চেষ্টা করে। এ সময় তিনি বাধা দেন। একপর্যায়ে কক্ষের ১৯ জন পরীক্ষার্থী একযোগে হৈচৈ করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসে কেউ নকল করার চেষ্টা করলে তাকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। পরীক্ষা শেষে তিনি কাকচরে নিজ বাসায় চলে যান। সেখানে ওই শিক্ষার্থীরা গিয়ে বাইর থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিসোঁঠা নিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে তিনি জানালা দিয়ে বাইরে চলে যান।

এ সময় দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে কয়েকজন তাঁকে ধরে টেনেহিঁচড়ে সড়কের ওপর ফেলে বেদম  পেটায়। এ বিষয়ে কেন্দ্রের সহকারী সচিব মো. আনোয়ারুল হক ফকির বলেন, ‘পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বেশ কিছু পরীক্ষার্থী জানতে চায়, কেন তাদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। এ জন্য মূল্য দিতে হবে বলে শাসায়। ’ নান্দাইল ইউএনও মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষকের ওপর আক্রমণকারীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ’ নান্দাইল থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, ‘আহত শিক্ষকের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এক বছরের কারাদণ্ড

এদিকে চণ্ডীপাশা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা পেয়ে এক কক্ষ পরিদর্শককে লাঞ্ছিত করেন নান্দাইল পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হাফিজুল ইসলাম শাহান (২৭)। তাঁকে আটক করে পুলিশ। পরে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট তামিম আল ইয়ামীনের আদালতে হাজির করা হয়। দোষ স্বীকার করলে ১৯৮০ সালের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনে তাঁকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ক্ষেতলালে শিক্ষা কর্মকর্তা লাঞ্ছিত

এদিকে জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, এসএসসি গণিত পরীক্ষায় অসদুপায়ে বাধা দেওয়ায় জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে গালি ও আঘাতের চেষ্টা করেছেন এক প্রধান শিক্ষক। ক্ষেতলাল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ কেন্দ্রে গতকাল রবিবার এ ঘটনা ঘটে।

কেন্দ্রে তদারকি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম। একটি কক্ষে শিক্ষার্থীদের অসদুপায় অবলম্বনে সহযোগিতার চেষ্টা চালান কেন্দ্রের জেনারেল শাখার হল সুপার ও পৌলুঞ্জ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদ আলী শাহিন। বিষয়টি নজরে আসায় কৌশলে বাধা দিতে কর্মকর্তা সেখানে অবস্থান নেন। প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের সামনে দায়িত্ব পালনে অনিয়মের মিথ্যা অভিযোগ তুলে কর্মকর্তাকে মারতে উদ্যত হন।


মন্তব্য