kalerkantho


বদরগঞ্জে মিথ্যা পরিচয়ে প্রেম, ঘনিষ্ঠতা, অন্তঃসত্ত্বা, গর্ভপাত

মামলা নিচ্ছে না পুলিশ

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



মামলা নিচ্ছে না পুলিশ

মিথ্যা পরিচয়ে প্রেম, ঘনিষ্ঠতা, অন্তঃসত্ত্বা ও জোর করে গর্ভপাতের মতো অপরাধ ঘটলেও রংপুরের বদরগঞ্জ থানা মামলা নিতে চাচ্ছে না। এ কারণে হিন্দু সম্প্রদায়ের মেয়েটি অসহায় হয়ে পড়েছে।

এলাকাবাসী ও থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন টুটুল মিয়া (২২)। মেয়েটি হিন্দু পরিবারের হওয়ায় তিনি নিজের নাম ও ঠিকানা গোপন করেন। তাঁর নাম আকাশ রায় বলে দিনাজপুর সরকারি কলেজের স্নাতকের ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেন। ঠিকানা বলেন হাকিমপুর উপজেলার বাংলাহিলী। গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে মেয়েটির সঙ্গে দেখা করে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। সরলতার সুযোগ নিয়ে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে মেয়েটি। এর মধ্যে মেয়েটি বিয়ের চাপ সৃষ্টি করলে যুবক টালবাহানা শুরু করেন।

ঘটনা এলাকায় ফাঁস হয়ে পড়লে এফিডেফিট করে ধর্মান্তরিত হয়ে মেয়েটিকে বিয়ে করার কৌশল অবলম্বন করেন। পরে মেয়ের পরিবার জানতে পারে আকাশ রায় ভুয়া পরিচয়। তিনি পাশের মাস্টারপাড়ার আব্দুল মোতালেব মিয়ার ছেলে আতিকুজ্জামান ওরফে টুটুল। তিনি কোথাও লেখাপড়া করেন না।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ ফেব্রুয়ারি টুটুল তাঁর সহযোগী মনোরঞ্জন রায়ের ছেলে হেমন্ত ওরফে হেম বাবুর (২৪) সঙ্গে আঁতাত করে মেয়েটিকে বাড়ি থেকে ডেকে নেন। ওই দিন মেয়েটিকে বোরকা পরিয়ে মোটরসাইকেলযোগে রংপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানতে পারেন, মেয়েটি প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। টুটুল চিকিৎসদের সঙ্গে পরামর্শ করে ওই হাসপাতালে জোর করে মেয়েটির গর্ভপাত ঘটান। ওই দিন তড়িঘড়ি করে মেয়েটিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বদরগঞ্জের কাশিগঞ্জে তাঁর এক বন্ধুর বাড়িতে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে রেখে সটকে পড়েন। মেয়েটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার পরিবারকে জানানো হয়। ওই বাড়ি থেকে মেয়েটিকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিরুপায় হয়ে মেয়ের ফুফু গত শনিবার রাতে বদরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। গতকাল রবিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করেনি পুলিশ।

টুটুলের চাচা আব্দুস সামাদ মাস্টার বলেন, ‘আমার ভাতিজাকে মিথ্যা ঘটনায় জড়ানো হয়েছে। মেয়েটির পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে  সমাধানের চেষ্টা চলছে। ’

মধুপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আয়নাল হক বলেন, ‘মেয়েটির পরিবার অত্যন্ত গরিব ও অসহায়। ঘটনাটি বিস্তারিত জানার পর মেয়েটির পরিবারকে থানায় গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। কিন্তু পুলিশ ছেলেপক্ষের টাকা নিয়ে ঘটনাটি আমাকে মীমাংসা করিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। ’

বদরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) শাহীনুর আলম বলেন, ‘মেয়ের পরিবার ধর্ষণের কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি। যার কারণে খোঁজখবর নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’


মন্তব্য