kalerkantho


আসামি ধরতে পুলিশের ‘ইঁদুর-বিড়াল’ খেলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০০:০০



আসামি ধরতে পুলিশের ‘ইঁদুর-বিড়াল’ খেলা

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গভীর ক্ষত নিয়ে এখনো সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসি। শয্যাপাশে মেয়ে ফারিহা। ছবিটি গতকাল তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

স্ত্রী কোপানো স্বামীকে ১২ দিনেও গ্রেপ্তার করতে পারেনি বগুড়ার শিবগঞ্জ থানার পুলিশ। পুলিশ পাবনার দুটি স্থানে অভিযান চালিয়েও ব্যর্থ হয়েছে। কারণ পুলিশ যাওয়ার দুই ঘণ্টা আগে খবর পেয়ে পালিয়ে গেছে আসামি। গত শনিবার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, চোখ মেলে তাকাচ্ছেন মনিকা শারমিন হাসি। তবে কথা বলছেন না। দিনরাত তাঁর শয্যা পাশে বসে থাকছে দুই অবুঝ শিশু ফাহাদ ও ফারিয়া। মায়ের মাথায় হাত দিয়ে দেখে চোখের পানি মুচছে তারা।

মেয়ের বাবা হান্নান চৌধুরী জানান, এখন মেয়ের উন্নত চিকিৎসা দরকার। ইতিমধ্যে মেয়ের জন্য তাঁর জমানো টাকার সবটুকু খরচ হয়ে গেছে। আর্থিক সংকটের কারণে তিনি উন্নত চিকিৎসা নিয়ে ভাবনায় পড়েছেন।

কালের কণ্ঠর অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত স্বামী আবু নাসের ইলিয়াস রিপন ঢাকার কচুক্ষেত এলাকায় তার নানার বাড়িতে ছিল।

এরপর রাতে সে পাবনা সদরের হেমায়েতপুরে তার বড় খালা এবং পরদিন ঈশ্বরদীতে তার ছোট খালার বাড়িতে থাকে। শুক্রবার এ তথ্যটি পুলিশ জানতে পারে। রাত দেড়টায় পুলিশ এই দুই স্থানে অভিযান চালায়। কিন্তু পুলিশি অভিযানের খবর আগে জানতে পেরে পালিয়ে সে ফের ঢাকার কচুক্ষেতে গিয়েছে।

হাসির পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলে, ‘পুলিশের ভেতর থেকেই কেউ তাকে ফোন দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। ঠিক এ কারণে এত দিনেও সে গ্রেপ্তার হচ্ছে না। ’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রিপনের সঙ্গে তার পরিবার ও বন্ধুদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এরা এলাকার খবর নিয়মিত জানাচ্ছে রিপনকে।

শিবগঞ্জ থানার ওসি শাহীদ মাহমুদ বলেন, ‘রিপনকে ধরতে পুলিশ তত্পর। শিগগিরই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে। ’

উল্লেখ্য, ১০ লাখ টাকা যৌতুকের জন্য প্রায়ই মারধর করা হতো হাসিকে। গত ৩১ জানুয়ারি রাতে বাগিবতণ্ডার একপর্যায়ে শিশুসন্তানদের সামনে স্বামী রামদা দিয়ে স্ত্রীর শরীরে ১৬টি কোপ মারে। বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাঁকে রাখা হয়েছে।

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জন সুশান্ত পাল বলেন, ‘হাসির অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন। তাঁর মাথা ও হাতের ক্ষত মারাত্মক। হাতের দুটি রগ কেটে গেছে। ’


মন্তব্য